শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাদের ঈদ উদযাপন হলো পথে পথে

news-image

নিউজ ডেস্ক : রাজপথ কিংবা পাড়া মহল্লার একটু ভেতরের দিকের পথগুলোতেই কেটেছে তাদের ঈদ। পথেই ঈদ উদযাপনের আয়োজন হিসেবে কখনও ছিল অপেক্ষা, কখনওবা আবার ছুটে চলার তাড়া। বলা হচ্ছে ঈদের দিনও পরিবহন সেবা দিয়ে যাওয়া মোটর সাইকেল ও প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাস চালকদের কথা।

সোমবার (২৫ মে) পালিত হচ্ছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল ফিতর। এবার বেশ ভিন্ন এবং চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে পালিত হচ্ছে ঈদ। ঈদের আনন্দ অনেকটাই মাটি অনেকের জন্যই। তেমনই প্রেক্ষাপটে ঈদের ছুটিতেও রাজধানী জুড়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিবহন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন মোটর যান চালকেরা।

করোনার এই সময়ে এসব যানবাহন চলাচলও একরকম নিষিদ্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ হলেও মেগাসিটি ঢাকায় যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই তাদের চলাচলের ‘পাইপলাইন’এখন এসব চালকেরা। বিশেষ করে রাজধানীর ভেতরে বা বাইরে দূরের পথ পাড়ি দিতে একমাত্র ভরসা কোনো সড়কে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা বাইক বা প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাস।

মিরপুর পল্লবীর কালসী মোড়ে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা বাইক চালক ফরিদ উদ্দিন নিয়মিত রাইড শেয়ারিং সেবা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতেন। করোনা সংক্রমণের সপ্তাহখানেক পর থেকে নিজেই যাত্রী পরিবহণ করছেন।

ফরিদ বলেন, প্রথম কিছুদিন বাইক চালাইনি। কিন্তু এটাই তো আয়, দিনের টাকা দিনে। এরপর থেকে অ্যাপ ছাড়াই যাত্রী পরিবহণ করছি। রোজায় অনেককে এখান থেকে গাজীপুর দিয়ে আসছি। আজকেও অপেক্ষা করছি। যদি কোনো যাত্রী উত্তরা বা অন্যকোনো দিকে যান তার জন্য। গাজীপুর বা নারায়ণগঞ্জ গেলেও নিয়ে যাব।

খামারবাড়ি মোড়ে একসাথে দেখা যায় বেশ কয়েকজন বাইকারকে। টিএন্ডটি মাঠ সংলগ্ন বড় গাছটার ছায়ায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দেওয়ার ফাঁকে কথা বলেন বাংলানিউজের প্রতিবেদকের সাথে। নূরে আলম নামের একজন বাইকার বলেন, আমরা নিজেরা নিজেদের সাথে পরিচিতই। সকাল বেলা এখানে সবাই আগে আসি তারপর রাইড খুঁজি। এই জায়গাটাই যেন অফিস হয়ে গেছে এই কদিনে। আজ অবশ্য দুপুরের দিকে এসেছি সবাই। অপেক্ষায় আছি রাইডের। আমাদের একজন বাইকার একটু আগে একটা রাইড নিয়ে গেল।

করোনার সময়ে ঝুঁকি আছে জেনেও কেন রাইড দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে এই বাইকার বলেন, আমাদের বেশিরভাগই এই ফার্মগেট এলাকার আশেপাশে মেসে ভাড়া থাকি। এবার ঈদেও বাড়িতে যাইনি। কি নিয়ে যাব? যা আয় হয়েছে তা দিয়ে কোনো রকমে টিকে আছি। বাসায় একা থাকতেও তো খারাপ লাগে। ভাবলাম এই কাজই যেহেতু করি আজও এটাকেই বেছে নেই। আমরা না পারি অনেকেই হয়ত এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় আত্মীয়ের সাথে দেখা করতে যাবেন।

কেউ হয়তো অফিস বা অন্য কোনো কাজে যাবে। তাদের সাথেই এবার ঈদ হোক। আর আমার বাইকে যারা ওঠেন তাদের সবার হাত ধুয়ে উঠতে হয়। আমার সাথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার আছে। আবার কেউ নেমে গেলে আমি পুরো বাইকে ব্লিচিং পাউডার স্প্রে করি। আর যাত্রীরা নিজেদের হেলমেট থাকলে পরেন নইলে আমি কোন হেলমেট দেই না। একই হেলমেট সবাই পরলে সেটা আরও বড় ঝুঁকি।

এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় প্রাইভেট কার বা মাইক্রো নিয়ে বের হয়েছেন অনেক চালকই। একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে নিজের কেনা মাইক্রো ভাড়ায় চালান আনিস মিয়া। দুই মাস যাবত প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ। তখন থেকেই বিভিন্ন সোর্স থেকে পাওয়া যাত্রীদের পরিবহন করে আসছেন তিনি। আনিস বলেন, প্রথম মাসের গাড়ি ভাড়া দিয়ে অফিস বলেছে এরপর অফিস খোলার আগে কোনো ভাড়া দেবে না। তাদের কথাও ঠিক। গাড়ির সেবা তো তারা নিচ্ছে না। এদিকে আমার তো আর কোনো আয়ের পথ নাই। গাড়ির কিস্তিও দিতে হয় ব্যাংকে। তাই নিজেই যাত্রী পরিবহন করছি। অনেকেই ঈদের দিনেও বাড়ি যায়। তাই দেখছি কেউ আছে কিনা যে মাওয়া বা আরিচা ঘাটে অথবা টাঙ্গাইলের দিকে যাওয়ার। আজ এভাবেই ঈদ পার হোক। বাংলানিউজ

এ জাতীয় আরও খবর

গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বিপাকে চালকরা

দুই দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ পদত্যাগ করছেন

আলুর নাগেট তৈরির রেসিপি জেনে নিন

ভালোবাসা পেলাম, এবার তার যোগ্য হওয়ার পালা : ফারিয়া

অবশেষে অনশন ভাঙলেন সোনাম ওয়াংচুক

ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মাংস, ডিম ও ব্রয়লারের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে মাছের দাম

নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ : শিক্ষা সচিবকে অপসারণ করল ভারত

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

বাগেরহাটে খানজাহান আলী মিশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে সমবায় সমিতির উদ্যোগ