এসবি সদস্য হত্যা মামলায় তিনজনের স্বীকারোক্তি
অনলাইন ডেস্ক : সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই মামলায় আরও দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকা আসামি কাশেম আলী ও দাদি আল ফায়েত জিতের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপরদিকে জহুরুল, আপন ও জিহাদের জবানবন্দি আদালতে রেকর্ড করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. জাকির আল আহসান আসামিদের আদালতে হাজির করেন। জহুরুল ও আপনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এবং জিহাদের জবানবন্দি নেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ।
রিমান্ডে নেওয়া কাশেম আলীকে গত ৮ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের সাগরনাল এলাকা থেকে এবং জিতকে কুমিল্লার আমড়াতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার তাদের কারাগারে পাঠিয়ে বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এর আগে একই মামলায় আরও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ, ইমরান হোসেন, নূর মোহাম্মদ রুদ্র ও গোলাম রাব্বিকে পাঁচ দিনের এবং বিল্লাল ও দেলোয়ারকে তিন দিনের রিমান্ড দেন আদালত। ৭ সেপ্টেম্বর মামলার প্রধান আসামি জহুরুলের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এছাড়া বুধবার রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহমেদ ও ওয়াসিমের তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাভারের বরদেবী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে এসআই আলতাফ হোসেন আসামিদের রোষানলে পড়েন। পরে তিনি প্রাণ বাঁচাতে ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন’-এ আশ্রয় নেন।
এজাহারে বলা হয়, রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে আলতাফ হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়। রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।
হামলাকারীরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি এবং ক্যাশ বাক্স থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় আলতাফ হোসেনকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।











