শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেতু ছুঁয়ে দেখার অপেক্ষা

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট : এক সময়ের স্বপ্ন ছিল পদ্মাসেতু। কিন্তু স্বপ্নের সেই সেতুতে যানবাহন উঠতে আর বেশি দিন বাকি নেই। এরইমধ্যে ৪২টি খুঁটির সবগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ১৪টি স্প্যান বসানো বাকি রয়েছে। যা আগস্টে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর থেকেই শুরু হবে সেতু ছুঁয়ে দেখার অপেক্ষা।

মঙ্গলবার দুপুরে পদ্মাসেতুর ৪২ নম্বর খুঁটির ওপরের অংশের ঢালাই শুরু হয়। সন্ধ্যার মধ্যেই এ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সেতু প্রকৌশলীরা। তারা জানান, আগামী তিনদিনের মধ্যে খুঁটি শক্ত আকার ধারণ করবে। আর পুরোপুরি লোড নিতে সময় লাগবে প্রায় এক মাস।

সেতুটি চালু হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এতে মোট দেশজ উৎপাদন প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) এক থেকে দেড় শতাংশ বাড়বে। দারিদ্র্যের হার কমবে দশমিক ৮৪ শতাংশ। পদ্মার ওপারে গড়ে উঠবে শিল্পকারখানা।

চার বছর আগে পদ্মাসেতুর কাজ শুরু হয়। সবশেষ খুঁটির কাজের মধ্য দিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করল প্রকল্পটি। মাঝে খুঁটি জটিলতার কারণে এক বছরের বেশি সময় কাজ পিছিয়েছে।

চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি জানায়, মূল সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে মাওয়া এসেছে ৩৯টি। ২৭টি স্থাপন করা হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য চার হাজার ৫০ মিটার। বাকি দুইটি স্প্যান চীনে নির্মাণ সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে। এখন সে দুইটির ব্লাস্টিং ও পেইন্টিং কাজ চলছে। ২০ এপ্রিলের মধ্যে চীন থেকে এটি বাংলাদেশে রওনা দেবে। এরপরই এক সঙ্গে দৃশ্যমান হবে পুরো সেতু।

৪২টি খুঁটিতেই দাঁড়াবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার লম্বা পদ্মাসেতু। এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। একেকটি খুঁটি ৫০ হাজার টন লোড নিতে সক্ষম।

পদ্মাসেতুর প্রকৌশলীরা জানান, মাঝ নদী ও মাওয়া প্রান্তে সেতুর ২২টি খুঁটিতে সবচেয়ে বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছিল। প্রথমে যে গভীরতার ধারণা নিয়ে কাজ এগোনো হচ্ছিল বাস্তবে তার সঙ্গে মেলেনি। এ নিয়েই বিপত্তি হয়েছিল সেতু নির্মাণে। এসব কারণে ২২টি খুঁটির কাজ আটকে যায়।

তারা আরো জানান, সবশেষে এমন একটি পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় যাতে নদীর তলদেশে কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় মাটি বদলে নতুন মাটি তৈরি করে খুঁটি গাঁথা যায়। এই বিশেষ ‘স্ক্রিন গ্রাউটিং’ পদ্ধতিতে সফলতা পাওয়া গেছে।

পদ্মাসেতুর আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল প্রধান অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, পাইপের ছিদ্র দিয়ে বিশেষ কেমিকেল নদীর তলদেশে পাঠিয়ে মাটির গুণাগুণ শক্ত করে তারপর সেখানে খুঁটি গাঁথা হয়েছে।

তিনি বলেন, কাজ শুরু করতে গিয়ে নদীর নিচে মাটির যে স্তর পাওয়া গেছে তা খুঁটি গেঁথে রাখার উপযোগী নয়। পরে নদীর তলদেশের মাটির গুণগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে ড্রাইভিং করতে হয়েছে। এমন পদ্ধতিতে কোনো সেতুর খুঁটি নির্মাণ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হয়েছে। যা বিশ্বে নজিরবিহীন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১১টি খুঁটি গড়ে তোলা হয়েছে। সবশেষ ৪২ নম্বর খুঁটিও এভাবে ঢালাইয়ের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে।

নদীতে ৬.১৫ কিলোমিটারসহ মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর জেলা মিলিয়ে সাড়ে নয় কিলোমিটার লম্বা পদ্মাসেতু। দেশের সবচেয়ে বড় এই নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। ২০২১ সালের জুনে পদ্মাসেতু খুলে দেয়া হবে। এখন পর্যন্ত সেতুর চার কিলোমিটার দৃশ্যমান।

এ জাতীয় আরও খবর

গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বিপাকে চালকরা

দুই দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ পদত্যাগ করছেন

আলুর নাগেট তৈরির রেসিপি জেনে নিন

ভালোবাসা পেলাম, এবার তার যোগ্য হওয়ার পালা : ফারিয়া

অবশেষে অনশন ভাঙলেন সোনাম ওয়াংচুক

ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মাংস, ডিম ও ব্রয়লারের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে মাছের দাম

নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ : শিক্ষা সচিবকে অপসারণ করল ভারত

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

বাগেরহাটে খানজাহান আলী মিশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে সমবায় সমিতির উদ্যোগ