,

ইঁদুর শিকারই নেশা

news-image

নাটোর প্রতিনিধি : ফসলের মাঠ দেখলেই নেমে পড়েন ইঁদুর শিকারে। ইঁদুর শিকারের নেশায় ফাঁদ হাতে তিনি ছুটে চলেন গ্রাম থেকে গ্রামে। ব্যতিক্রমী এই নেশা রীতিমতো এলাকায় সাড়া ফেলেছে। নাটোরের বাগাতিপাড়ার মুক্তার মোল্লা নামে এক দিনমজুরের এমন নেশায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

বাগাতিপাড়া উপজেলার সদর ইউপির চকহরিরামপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ মোল্লার ছেলে মুক্তার মোল্লা রোববার ফাঁদে আটকা পড়া বেশ কিছু ইঁদুরসহ উপজেলা কৃষি অফিসে হাজির হয়েছিলেন।

মুক্তার মোল্লা বলেন, দশ বছর ধরে উপজেলার ভেতরের চকহরিরামপুর, হরিরামপুর, তমালতলা, যোগীপাড়া, কোয়ালীপাড়াসহ আশপাশের মাঠে মাঠে ইঁদুর শিকারের খোঁজে নিজের ইচ্ছায় ঘুরে বেড়ান। একসময় তিনি শ্যালোমেশিনে পানি সেচের ব্যবসা করতেন। ফসলের ক্ষেতে পানি দেয়ার সময় গর্ত থেকে বেরিয়ে আসা ইঁদুর মারতেন তিনি। এরপর বিষটোপ দিয়ে ফসলি জমি এবং বাড়ির ইঁদুর শিকার করতেন। এভাবে ইঁদুর মারার নেশায় পেয়ে বসে তাকে। এখন পঞ্চাশটির মতো সিটকা ফাঁদ কিনেছেন। প্রায় দু বছর ধরে এই ফাঁদেই তিনি ইঁদুর শিকার করে চলেছেন। প্রতিদিন বিকেল হলেই ময়দার টোপ ফাঁদে লাগিয়ে ফসলি জমিতে রেখে দেন। প্রথম দফায় রাত নয়টার দিকে এবং দ্বিতীয় দফায় পরদিন সকালে মাঠে নেমে ফাঁদে ইঁদুর পড়েছে কিনা যাচাই করেন। পরিবেশের কথা মাথায় রেখে ফাঁদে আটকা পড়া ইঁদুরগুলো তিনি মাটিতে পুঁতে ফেলেন। প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি ইঁদুর শিকার করেন। একদিনে তিনি সর্বোচ্চ ৩৪৪টি ইঁদুর শিকার করেছেন। নিজের জমি নেই তবুও এভাবে দশ বছর ধরে চলছে তার ইঁদুর নিধনের ব্যতিক্রমী নেশা। এ দশ বছরে অন্তত ৫০ হাজার ইঁদুর মেরেছেন তিনি।

মুক্তার মোল্লা বলেন, একসময় কামলা দিয়ে জমির মালিকের কাছ থেকে ধান নিতাম। একদিন মাটির ঘরের মেঝেতে রাখা সব ধান ইঁদুর গর্তে নিয়ে যায়। সেসময় সিটকা ফাঁদ পেতে ইঁদুর মেরেছিলাম। ওই ফাঁদে আটকা পড়ে হাতের একটি আঙ্গুলের মাথা কাটা পড়ে। তখন থেকে ইঁদুর শিকারের জেদ আরো বেড়ে যায়। এখন কৃষকদের কষ্টে উৎপাদিত ফসল রক্ষায় ইঁদুর মারতে ফাঁদ হাতে মাঠে মাঠে যাই। জমির মালিকরা উৎসাহ দেয়। কেউ বাধা দেয় না।

উপজেলার চকহরিরামপুর গ্রামের কৃষকরা বলেন, মুক্তার মোল্লার এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এলাকায় রীতিমতো সাড়া ফেলেছে। দীর্ঘদিন থেকে তিনি জমিতে ফাঁদ পেতে ইঁদুর মারেন। এলাকায় তিনি ইঁদুর মারার মুক্তার মোল্লা নামে পরিচিতি পেয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোমরেজ আলী বলেন, ধান, গম, মসুর, কলাইসহ বিভিন্ন ফসলের জন্য ক্ষতিকর ইঁদুর নিধনে প্রতি বছর বিশেষ সপ্তাহ পালন করে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। ইঁদুর শিকারি মুক্তার মোল্লার কথা অনেক গ্রামেই শোনা যায়। স্বেচ্ছায় মুক্তার মোল্লার এই উদ্যোগ ফসল রক্ষা করছে। এই কাজে উৎসাহ জোগাতে আগামীতে ইঁদুর নিধন সপ্তাহে পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

জিন্নাহর ভূমিকা অস্বীকারের সুযোগ নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

শাহজালালের ৩য় টার্মিনালে ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে মেনজিস

রাজশাহীতে পদ্মায় হঠাৎ উঁচু ঢেউ, দেবে গেছে ৭৫ মিটার বাঁধ

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রেস সচিব

৯৯ বিচারককে একযোগে বদলি

ডাকসু থেকে কোনো টাকা নেননি ভিপি-জিএস-এজিএস

প্রবাসীদের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টার অভিযোগ জামায়াত আমিরের

৬ জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন শেষ করার তাগিদ ইসির

বাদশাকে নিয়ে ইশার বিস্ফোরক দাবি

প্রোপাগান্ডাকে অভিযোগ হিসেবে নেওয়ায় দুদকের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নাহিদের

অডিও ফাস: ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি প্রত্যাহার

এসআই আলতাফ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর