,

তোফায়েল আহমেদ: সংগ্রাম ও নেতৃত্বের দীর্ঘ পথচলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠা এই নেতা কয়েক দশক ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন।

ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া তোফায়েল আহমেদ শিক্ষাজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে পড়াকালীন ছাত্রনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই সময় ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হিসেবে তার নাম বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি ধারাবাহিকভাবে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন এবং বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন প্রক্রিয়াতেও ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার মন্ত্রিসভার সদস্য হন। শিল্প, বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি দলীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

শুধু জাতীয় রাজনীতিতেই নয়, নিজ জেলা ভোলার উন্নয়নেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। নদীভাঙন রোধ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জেলার সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার নানা উদ্যোগে তিনি ভূমিকা রেখেছেন।

রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছেন তোফায়েল আহমেদ। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার শেষে ৮২ বছর বয়সে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র গঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার অবদান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এ জাতীয় আরও খবর

রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ ব্যাংকে নতুন এমডি

‘জেলার ২’ ১১ দিনেই ৭০০ কোটি আয়

ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, ভর্তি ২২১৮

আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন প্রবাসীরা

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার এবং তাকে অপসারণের দাবি টিআইবির

৭ নভেম্বর সারা দেশে র‍্যালি করবে বিএনপি

আইজিপিকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে

ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ চলছে : হুইপ দুলু

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদর দপ্তর

মানবতাবিরোধী অপরাধ: প্রথমবার বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন মির্জা আজম-আমু-শাজাহান

চার দিনের সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

গোলাপি আভায় জয়া আহসান