,

শিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছে বিলুপ্ত ছিটমহল বোয়ালমারী বাঁশপেছাইবাসী

news-image

রংপুর ব্যুরো : ১৯৭৪ সালের ‘মুজিব-ইন্দিরা স্থল সীমান্ত চুক্তি’ বিলটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর বাংলাদেশে অভ্যান্তরের ১১১টি ছিটমহলের বাসিন্দা আলোর মুখ খুঁজে পেয়েছেন। দীর্ঘ ৬৮ বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাবার পর আপন আলোয় আলোকিত হচ্ছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও লালমনিরহাট উপজেলা ঘেষা বিলুপ্ত ছিটমহল বোয়ালমারী বাঁশ পেঁচাইবাসী।

ধরলা নদী দ্বারা বেষ্টিত বিলুপ্ত ছিটমহল বোয়ালমারী বাঁশ পেঁচাই বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হওয়ার পূর্বে ছিলো পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। কোনো রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা না থাকায় ছিল না বিচার ব্যবস্থার। বঞ্চিত ছিল মৌলিক অধিকার থেকে। ছিল না কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেখানে চলতো চুরি-ডাকাতিসহ নানান অপকর্ম। নিজস্ব ভূ-খন্ড না থাকায় পরিচয় দিতে পারতো তারা। পড়ালেখাতো দুরের কথা কোন শিক্ষা প্রতিষ্টান সেসময় গড়ে উঠে নাই। ফলে কাছাকাছি কোনো বিদ্যালয় না থাকায় সেসুযোগও মেলেনি তাদের। যার কারনে ছেলে-মেয়েকে কম বয়সেই বিয়ে দিয়ে সংসারের হাল ধরাতে হয়েছিল। বেড়ে গিয়েছিলো বাল্য বিবাহের প্রবণতা ও কুসংস্কারের।

২০১৫ সালের ৩১ জুলাই ছিটমহল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ফিরে পাবার পর সমাপ্তি ঘটে অগোছালো জীবনের। ফিরে পায় রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুতায়ন, সরকারি-বেসরকারি নানান সুযোগ সুবিধা। শিক্ষার প্রসার ঘটাতে নির্মাণ করা হয় বোয়ালমারী বাঁশ পেঁচাই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। যা এই অবহেলিত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসা। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ায় ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের মাঝেও উৎফুল্লতা বিরাজ করছে।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছানোয়ার, উমর ফারুক, মাজেদা ও অষ্টম শ্রেণির আনজু, সাবিনা মরিয়ম, শাহাদত, মফিজুলের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার আগে ওই এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজের পরিচয় গোপন রেখে ধরলানদী ও চর পাড়ি দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলাধীন মিয়াপাড়া, চর শিমুলবাড়ী, কিশামত শিমুলবাড়ী, চর গোরকমন্ডপ সরকারী প্রাথমিক ও নাওডাংগা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং মিয়াপাড়া নাজিমুদ্দিন বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অথবা ওই ধরলানদী পেড়িয়ে ৮ কিলোমিটার দূরের লালমনিরহাট সদরের ইটাপোতা দাখিল মাদ্রাসা ও চর ক্লুাঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে হতো।

স্থানীয় গ্রামের রহমত আলী ও নুর ইসলাম জানান, এখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর বাল্যবিবাহ অনেক কমে গেছে। আগে ছেলেমেয়েরা দূরের স্কুলে গিয়ে পড়ালেখা করতে চাইতো না। এখন এলাকায় স্কুল হওয়ায় ছেলে-মেয়েরাও পড়তে আগ্রহী হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমর আলী জানান, আমরা শিক্ষকেরা চর এবং ধরলা নদী পেড়িয়ে এসে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদান করেই যাচ্ছি। এমপিও ভুক্তি করণের জন্য আবেদন করেছি।

সরকারের কাছে আমাদের আবেদন ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবনের য়ে ভাবে মুক্তি এনে দিয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তেমনি ভাবে এ এলাকার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুযোগ করে দেয়ার।

এ জাতীয় আরও খবর

জিন্নাহর ভূমিকা অস্বীকারের সুযোগ নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

শাহজালালের ৩য় টার্মিনালে ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে মেনজিস

রাজশাহীতে পদ্মায় হঠাৎ উঁচু ঢেউ, দেবে গেছে ৭৫ মিটার বাঁধ

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রেস সচিব

৯৯ বিচারককে একযোগে বদলি

ডাকসু থেকে কোনো টাকা নেননি ভিপি-জিএস-এজিএস

প্রবাসীদের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টার অভিযোগ জামায়াত আমিরের

৬ জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন শেষ করার তাগিদ ইসির

বাদশাকে নিয়ে ইশার বিস্ফোরক দাবি

প্রোপাগান্ডাকে অভিযোগ হিসেবে নেওয়ায় দুদকের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নাহিদের

অডিও ফাস: ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি প্রত্যাহার

এসআই আলতাফ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর