,

নবীনগরে  বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে  ফসলি  জমি ধ্বংস করে মাটি ফেলার অভিযোগ

news-image

নবীনগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :নবীনগরে জনকল্যাণের নামে কয়েকশত একর  ফসলি কৃষিজমি ধ্বংস করে মাটি ফেলে প্রতিষ্ঠান  তৈরি করার পায়তারা চলছে। নবীনগরে উপজেলার  মহেশপুরে ফাউন্ডেশন নাম ভাঙ্গিয়ে  কোটি টাকার মাটি  বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।   মাটির নিচে চাপা পড়ছে কৃষকের হাহাকার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে জাহেরা আহামেদ ফাউন্ডেশনের’ নামে  ফসলি কৃষি জমিতে বাণিজ্যিক ডেক(বাঁধ) তেরী করে মাটি ফেলার ফলে ধ্বংস হওয়ার  উপক্রম  হয়েছে  কৃষিজমি। নবীনগরে “জাহেরা আহামেদ ফাউন্ডেশন” নামে  বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে জনকল্যাণমূলক কাজের কথা বলে মাটি দিয়ে   বিশাল  ডেক(বাঁধ) তৈরি করে তাতে  ড্রেজার ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার মাটি ফেলার অভিযোগ উঠেছে।   উর্বর ফসলি জমিতে তৈরী  করা  ডেকে ( বাঁধে) ফেলা  হচ্ছে এই  মাটি। ফলে ধ্বংস হচ্ছে কৃষি  জমি।

এই মাটি-খেকোদের সাথে হাত মিলিয়েছে “চায়না বাংলা” ও “গ্রেট ওয়াল শিপ বিল্ডার্স”-এর মতো রাঘববোয়াল প্রতিষ্ঠানগুলো। সরকারি নথিপত্র বলছে, ফাউন্ডেশনটি অটিজম পুনর্বাসন কেন্দ্র, মাদ্রাসা, স্কুল, হাসপাতালের মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের নামে মাটি উত্তোলনের অনুমোদন নিয়ে সেই ফসলি কৃষি জমিতে  ঘরে তুলবে এইসব প্রতিষ্ঠানগুলো।  এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে  এই প্রতিষ্ঠানের নমে কোটি কোটি টাকা ব্যাংক লোন নেওয়ার পায়তারা করছে আর এটাই হচ্ছে তাদের মূল ধান্দা।  বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর বিলের প্রায় অর্ধেক অংশে সরকারি অর্থে বরাদ্দকৃত  ড্রেজার দিয়ে ডেক (তৈরি করা বাঁধে)  মাটি ফেলার পাঁয়তারা করছে। আর এইখানেই কৃষকদের মাথাই বাজ পড়েছে। তারা বলছে ফসলি জমি নষ্ট করে সেখানে বাণিজ্যিক সুবিধা তৈরির চেষ্টা এতে আমরা কৃষককুল  ধ্বংস হবো ।

মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের তোয়াক্কা না করে অবাধে চলছে কৃষিজমি ভরাট। কৃষকদের  অভিযোগ—এই প্রক্রিয়ার আড়ালে কোটি কোটি টাকার মাটির অর্থ  যাচ্ছে  কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির পকেটে । এই মাটি-কেলেঙ্কারির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরাও রেহাই পাননি। ঘটনাস্থলে ছবি তুলতে গেলে মাটি-মাফিয়ার দল সাংবাদিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ক্যামেরা।  মৃৎবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের মাটি ভরাট চলতে থাকলে নবীনগরের উর্বর কৃষিজমি দ্রুত হারিয়ে যাবে, যা খাদ্য উৎপাদনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি, এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হলে আরও ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় জনগণ  ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ফসলি জমি  ব্যবহারের কঠোর নিয়ম থাকা সত্ত্বেও একটি  ফাউন্ডেশন কীভাবে এত বড় উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন বা কি করছেন?

এ ব্যাপারে  জাহেরা আহামেদ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব  মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনের দাবী, সরকারি সকল নিয়মকানুন মেনেই আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এখনো আমাদের তৈরি ডেকে (বাঁধে) সরকারি মাটি ফেলতে পারছি না  কারণ সেটি আমরা এখনো অনুমোদনই পাইনি। তবে অনুমোদন পেলেই আমরা মাটি ফেলব।

জাহেরা আহামেদ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফরিদ আহামেদ জানিয়েছেন,বিআইডব্লিউটিএ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার  ও  কৃষিবিদ মোঃ  জাহাঙ্গীর আলম লিটন  বলেন – কৃষি জমির শ্রেণী পরিবর্তন করতে হলে প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন আছে। কৃষি জমির জলাবদ্ধতা এবং নিষ্কাশনের জন্য কোনো ধরনের ক্যানেল না রাখা হলে পরবর্তীতে জমি গুলোতে কৃষক আবাদে আগ্রহ হারাবে, ফলে পতিত জমির পরিমাণ বাড়বে যা উৎপাদনে প্রভাব পরবে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান কৃষি জমি নষ্টকরার বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  রাজীব চৌধুরী বলেন, এই উপজেলায় মাটির বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তারা যে ডাইক করেছে, তার কোনো বৈধতা নেই।

এ জাতীয় আরও খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন, জানালেন জিএস ফরহাদ

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড