সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোবাইল চুরি নয়: চাচির পরকীয়া দেখা ফেলায় আজিজাকে পুড়িয়ে হত্যা

news-image

নিউজ ডেস্ক : মোবাইল চুরি নয়, চাচির সঙ্গে পরকীয়া প্রেমিকের অপ্রীতিকর ঘটনা দেখে ফেলার কারণেই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আজিজাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত তমুজা বেগম।

আর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে আজিজার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা খৈনকুট গ্রামের নিহত স্কুলছাত্রী আজিজা খাতুন (১৩) আবদুস সাত্তারের মেয়ে। সে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রী। বাবা সাত্তার স্থানীয় একটি মুরগির খামারে চাকরি করেন। শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের দগ্ধ অবস্থাতে তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজন ও পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল চুরির অভিযোগে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে প্রথমে নির্যাতন ও পরে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আজিজার চাচি বিউটি বেগমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে শিবপুর থানায় মামলা করেছেন নিহতের পিতা সাত্তার মিয়া। মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিউটি বেগমের মা সানোয়ারা বেগম, তার ভাই রুবেল মিয়া ও তার ফুপু শাশুড়ি তমুজা বেগম। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো তিনজনকে আসামি করা হয়।

নিহত আজিজার ভাই সুজন ও মা রেহেনা বেগম জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী স্থানে গাছের পাতা কুড়ানোর সময় স্কুলছাত্রী আজিজার চাচি বিউটি বেগম ও তার ভাই রুবেল মিয়া একটি সিএনজি দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার বাড়ির অদূরে একটি উচু টিলায় নিয়ে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেয় এবং শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

সুজন আরো জানান, আট-দশ দিন আগে চাচি বিউটি বেগমের একটি মোবাইল সেট চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে। চাচির মা ও অন্য স্বজনরা এর জন্য আজিজাকে সন্দেহ করে। তারা হুমকি দেয়, এক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইল ফোন ফেরত না দিলে আজিজাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেবে।

পুলিশের হাতে আটক তমুজা বেগম বলেন, গত তিন মাস পূর্বে বিউটি বেগমের স্বামী মালয়েশিয়া যায়। স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর বিউটি বেগম পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। প্রেমিকের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা শুরু করে। এরই মধ্যে বিউটি বেগমের সঙ্গে তার প্রেমিকের অবৈধ মেলামেশার দৃশ্য দেখে ফেলে স্কুলছাত্রী আজিজা। এরপর থেকেই আজিজাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অংশ হিসেবে মোবাইল চুরির নাটক সাজানো হয়। ঘটনাকে বাস্তবায়ন করতে পরিকল্পিতভাবে মোবাইল চুরির অপবাদ দেওয়া হয় আজিজা ও তার বোনকে।

নিহতের বোন মারুফা বলেন, যে মোবাইল চুরির কথা বলে সেটা চাচি হাতেই ছিল। ইচ্ছে করে আমাদের ওপর অপবাদ দিয়েছে। আমার বোনের হত্যাকারীদের বিচার চাই। তাদের যেন ফাঁসি হয়।

শিবপুর থানার ওসি মো. সৈয়দুজ্জামান জানান, মোবাইল চুরি নয়, চাচির সঙ্গে পরকীয়া প্রেমিকের অপ্রীতিকর ঘটনা দেখে ফেলার কারণেই আজিজাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাত ১১টার দিকে বিউটির ফুপু শাশুড়ি তমুজা বেগম বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এ জাতীয় আরও খবর

আমড়া খাওয়ার এই উপকারিতাগুলো জানতেন?

কাহানি থ্রি-তে বিদ্যা বালান নয়, মূল চরিত্রে ইয়ামি গৌতম

২০২৬-২৭ অর্থবছর: রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে : আইনমন্ত্রী

যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ২০

কলকাতার ‘পাখি’ এবার ঢাকাই সিনেমার ‘চামেলি’

সৌদিতে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তার

স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল স্ত্রীরও

সাত মাসের মেয়েকে হত্যার মামলায় বাবার ৩ দিনের রিমান্ড

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

রেমিট্যান্সে বড় গতি, ২৫ দিনে এলো ২৮ হাজার কোটি টাকা