,

১৪ বছরেও শেষ হয়নি ঢাকা-টঙ্গী রেল প্রকল্প

news-image

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সক্ষম করতে ২০১২ সালে শুরু হয়েছিল ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর রেলপথ সম্প্রসারণ প্রকল্প। তিন বছরে শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও ১৪ বছর পরও পুরো কাজ শেষ হয়নি। বরং কয়েক দফা সংশোধনে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় চার গুণে পৌঁছেছে।

প্রাথমিকভাবে ৮৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটির বর্তমান ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৪২ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সংশোধনের পর ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে ঢাকা স্টেশন সংস্কারসহ বাকি কাজ শেষ করতে আরও প্রায় দুই বছর প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ কারণে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রকল্পের শুরুতেই পর্যাপ্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশার ঘাটতি ছিল। ফলে বাস্তবায়নের সময় নকশা পরিবর্তন এবং কাজের পরিধি বাড়াতে হয়েছে। প্রথমে ৭১ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা বেড়ে ১৩৭ দশমিক ৯৪১ ট্র্যাক কিলোমিটারে দাঁড়ায়।

প্রকল্পে তুরাগ নদীর ওপর টঙ্গী সেতু চার লাইনে উন্নীত করা, রেললাইনে উন্নতমানের ইউআইসি ৬০ কেজি রেলপাত ব্যবহারসহ বেশ কিছু নতুন কাজ যুক্ত হয়েছে। এর সঙ্গে দুটি বড় সেতু, ২৫টি ছোট সেতু ও কালভার্ট, কয়েকটি স্টেশন ভবন পুনর্নির্মাণ, নতুন প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নও প্রকল্পের আওতায় এসেছে।

প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজ, পরামর্শক নিয়োগ, নকশা ও দরপত্র প্রক্রিয়াতেই প্রায় ছয় বছর সময় চলে যায়। পরে ঠিকাদারের কাঁচামাল সরবরাহে বিলম্ব এবং করোনার প্রভাবেও কাজের গতি কমে যায়।

এদিকে প্রকল্পের ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন ও অর্থছাড়ের ক্ষেত্রেও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের অনুমোদন পেতে প্রায় ২২ মাস সময় লাগে। পরে টার্মিনাল ডিসবার্সমেন্ট ডেট বাড়ানোর অনুমোদন পেতেও কয়েক মাস চলে যায়। এতে ঠিকাদারের বিল বকেয়া পড়ে এবং একপর্যায়ে কাজের গতি কমে যায়।

রেলওয়ের হিসাবে বর্তমানে প্রকল্পটির সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আগস্ট পর্যন্ত ৫৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার ফরমেশন ও ৫৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ শেষ হয়েছে। দুটি স্টেশন ভবন, দুটি বড় সেতু ও ১৯টি ছোট সেতুর কাজও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আরও দুটি ছোট সেতু, দুটি স্টেশন ভবন ও প্রায় চার কিলোমিটার ফরমেশনের কাজ চলছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-টঙ্গী অংশে চারটি এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর অংশে দুটি প্রধান রেললাইন থাকবে। এতে বর্তমানে চলাচলকারী ট্রেনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে। রেলওয়ের হিসাবে, ঢাকা-টঙ্গী অংশে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৫০টি এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর অংশে ৯০টি ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

তবে অর্থসংকট এখনো প্রকল্পটির অন্যতম বড় সমস্যা। চলতি অর্থবছরে জিওবি মূলধন খাতে বরাদ্দের তুলনায় সিডি-ভ্যাট পুনর্ভরণ বিল বেশি থাকায় ঠিকাদারের মালামাল সরবরাহেও নতুন করে জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, অর্থায়ন ও সাইট ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটি শুরু থেকেই বিলম্বের মুখে পড়েছে। ঢাকা স্টেশনসহ সব কাজ শেষ করতে আরও প্রায় দুই বছর প্রয়োজন। মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন না পেলে অসমাপ্ত কাজ রেখেই প্রকল্পটি শেষ করতে হবে।