,

এআই দিয়ে ভুয়া সংবাদ, ২৯ ক্লড অ্যাকাউন্ট বন্ধ

news-image

অনলাইন ডেস্ক : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ ভুয়া সংবাদ ও প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরির একটি নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে ২৯টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক।

অ্যানথ্রপিকের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ওই নেটওয়ার্কটি প্রতিষ্ঠানটির এআই চ্যাটবট ক্লড ব্যবহার করে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন বানোয়াট সংবাদ তৈরি করত। এসব কনটেন্টের বড় একটি অংশ আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং দলটির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে প্রচারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাইবান্ধার একজন ব্যক্তি প্রায় ১৬ মাস ধরে ২৯টি ক্লড অ্যাকাউন্ট পালাক্রমে ব্যবহার করে এই কার্যক্রম চালান। নজরদারি ও ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা এড়াতেই একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে অ্যানথ্রপিক।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ‘ফেক_নিউজ_৩.পিওয়াই’ নামে একটি কাস্টম সফটওয়্যারের মাধ্যমে ক্লডের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে একসঙ্গে ১৫টি শিরোনাম, তিনটি বিস্তারিত বানোয়াট প্রতিবেদন এবং ১৫টি ছবির জন্য প্রম্পট তৈরি করা হতো। এই প্রক্রিয়ায় অন্তত ১ হাজার ৫০০ শিরোনাম, ৩০০টি ভুয়া প্রতিবেদন এবং ১ হাজার ৫০০টি ছবি তৈরির নির্দেশনা প্রস্তুত করা হয়েছিল।

অ্যানথ্রপিকের ধারণা, এসব ছবি তৈরির নির্দেশনা অন্য কোনো এআই মডেলে ব্যবহার করা হয়েছে। পরে তৈরি কনটেন্ট ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করে অডিও-ভিডিওতে রূপান্তরের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের প্রস্তুতি নেওয়া হতো।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটককে কেন্দ্র করে এসব কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার সীমিত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া আওয়ামী লীগ সমর্থকদের লক্ষ্য করে সহজবোধ্য ও আক্রমণাত্মক ভাষায় কনটেন্ট তৈরি করা হতো।

অ্যানথ্রপিকের বিশ্লেষণে ওই নেটওয়ার্কের প্রচারণায় কয়েকটি নির্দিষ্ট বয়ান বারবার উঠে এসেছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার ও ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের নেতাদের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত দেখানো এবং বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে কথিত দুর্নীতি ও গোপন জোটের অভিযোগ এসব কনটেন্টে প্রচার করা হতো বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

নেটওয়ার্কটির ভিডিও দ্রুত ও নির্ধারিত সময়ে প্রকাশের জন্য ইউটিউবের এপিআই ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় আপলোড ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছিল। তৃতীয় পক্ষের একটি সেবার মাধ্যমে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভিডিও প্রকাশ করা হতো এবং এর ফলে পরিচালনাকারীর আইপি ঠিকানা আড়াল থাকত বলে জানিয়েছে অ্যানথ্রপিক।

তবে এই কার্যক্রমের পেছনে কোনো রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা বা সরকারি অর্থায়নের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কিছু প্রচারণার বক্তব্য ভারতপন্থি ভূরাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও সেটিকে কোনো রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়নি।

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে নেটওয়ার্কটি শনাক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট সব ক্লড অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা ঠেকাতে নেটওয়ার্কটির আচরণগত বৈশিষ্ট্যও শনাক্ত করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু কারিগরি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অ্যানথ্রপিকের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে এআই অপব্যবহারের নয়টি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনায় ভুয়া তথ্য, সাইবার হামলা, নজরদারি ও অন্যান্য অপব্যবহারের জন্য এআই ব্যবহারের বিষয়টি উঠে এসেছে। বাংলাদেশের ঘটনাটিকে প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যেখানে একজন ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহার করে বড় পরিসরে ভুয়া কনটেন্ট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

এ জাতীয় আরও খবর