অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর খুচরা বাজারে মোটা চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাইকারি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন না হলেও খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন এলাকায় একই চাল ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের একাংশ এই মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলছেন।
রোববার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি পর্যায়ে মোটা চালের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের মতো করে দাম নির্ধারণ করছেন। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং বস্তায় চালের ঘাটতির অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মোহাম্মদপুর এলাকার এক খুচরা বিক্রেতা জানান, বর্তমানে তার দোকানে মোটা চাল প্রতি কেজি ৬২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের এলাকায় এ চালের চাহিদা বেশি থাকলেও অন্য এলাকায় বিক্রি তুলনামূলক কম হওয়ায় লাভের পরিমাণ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
চাল কিনতে আসা এক রিকশাচালক জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে। অল্প পরিমাণে চাল কিনে সংসার চালানো মানুষদের জন্য এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি বড় চাপ তৈরি করছে।
তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে মোটা চালের দাম বাড়েনি। পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচের কারণে বস্তাপ্রতি সামান্য পার্থক্য হতে পারে, কিন্তু খুচরা পর্যায়ে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বাড়ানো অযৌক্তিক।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নাজির ও মিনিকেট চালের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি প্রায় ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সুগন্ধি ও পোলাও চালের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ছয় মাসে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি চালের দাম কেজিতে ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে প্যাকেটজাত সুগন্ধি চাল ২১০ থেকে ২৩০ টাকা এবং খোলা পোলাও চাল অনেক জায়গায় ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বিদেশে সুগন্ধি চালের রপ্তানি বাড়ার কারণে দেশের বাজারে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এর পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও কৃত্রিম সংকটও দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
বাজারে কার্যকর নজরদারি ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর খাদ্য ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।