,

গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ ঘাটতি, গ্রামে বাড়ছে লোডশেডিং

news-image

অনলাইন ডেস্ক : গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলেও গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি বাড়ছে। এতে কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ৩টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৩৫৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৩৪১ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ১৪ মেগাওয়াট। পরে ঘাটতি কিছুটা কমলেও বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় এর প্রভাব থেকে গেছে।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল সংকট তৈরি হয়েছে গ্যাসের ঘাটতির কারণে। দেশের বড় অংশের বিদ্যুৎ উৎপাদন গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে অনেক কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। কিছু কেন্দ্র আংশিক উৎপাদনে রয়েছে, আবার কিছু কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানার নিজস্ব ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ রয়েছে। ফলে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করায় বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ থেকে ২০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠতে পারে। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন অনেক সময় ১৪ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। এতে কয়েক হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়ে লোডশেডিং বাড়ছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে গ্রামীণ এলাকায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ, কৃষিকাজ, ছোট ব্যবসা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় সেই সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। গ্যাস, এলএনজি, কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান কঠিন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন এবং একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমেছে। স্বল্পমেয়াদে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কাজ চলছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে

এ জাতীয় আরও খবর