বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি সখীপুরের রাস্তাটি

news-image

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : স্বাধীনতার ৫০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি একটি কাঁচা রাস্তায়। বর্ষা মৌসুমে কাঁচা রাস্তায় পানি জমে হাঁটু সমান কাদা তৈরি হয়। এর ভেতর দিয়েই চলতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। এতে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ওই এলাকার সাত গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা।

এ দশা টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের নাকশালা বাজার থেকে লাঙ্গুলিয়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তার।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা অভিযোগ, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এই রাস্তায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্যরা নির্বাচনের আগে সড়কটি পাকা করে দেয়ার বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা প্রতিশ্রুতিই রয়ে গেছে।

তারা জানান, এই রাস্তা ধরেই যাদবপুর, পাহাড়কাঞ্চনপুর, দেওবাড়ী, দাড়িয়াপুর, কাঙ্গালীছেও, লাঙ্গুলিয়া এবং বোয়ালী পশ্চিমপাড়া এলাকার মানুষকে চলাচল করতে হয়। এ রাস্তা বেহাল হওয়ার কারণে প্রতিদিনই ৭ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খানাখন্দ আর কাদায় পরিপূর্ণ রাস্তায় গরু এবং ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া সাইকেল, মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটো চলাচল একেবারেই বন্ধ রয়েছে। জুতা খুলে পায়ে হেঁটে যেতে গিয়েও অনেকে পা পিছলে পড়ে কাপড় নষ্ট করে আবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৪ কিলোমিটারের ওই রাস্তায় ঘোড়র গাড়ি ছাড়া কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। পায়ে হেঁটে যাওয়াও হয়ে উঠেছে কষ্টকর। এতে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নাকশালা বাজারে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য নেয়া।

কলেজছাত্র আশিকুর রহমান আশিক মিয়া জানান, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমাদের এ রাস্তায় একটি ইটও পড়েনি। আমাদের প্রতিনিয়ত চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি, এ সড়কটি যাতে অতি দ্রুত পাকা করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সড়কটি পাকা হলে সখীপুর থেকে অবহেলিত এসব গ্রামের মানুষের কষ্ট কম হবে এবং যোগাযোগ আরও সহজ হবে। তাদের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয়ের পাশাপাশি এ রাস্তার দুর্ভোগ থেকে রেহায় পাবেন।’
স্কুলছাত্রী লিমা আক্তার বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে আমাদের স্কুলে যেতে হয়। তবে একটু বৃষ্টি হলেই কাদা হয়, পানি জমে থাকে। সে সময় গাড়ি তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেই যাওয়ায় কষ্টকর হয়ে যায়। জুতা হাতে নিয়ে বোরকা উঁচিয়ে যেতে হয়। আমাদের একটাই দাবি, এই রাস্তা দ্রুত পাকা করা হোক।’

পল্লী চিকিৎসক সহিদুর রহমান জানান, ‘ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠালে তারাও যেতে চায় না। কোনো রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে বিপদে পড়তে হয়। ঘোড়া বা গরুর গাড়ি ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না।’

নাকশালা জমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তার এ অবস্থার কারণে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় বিমুখ হয়ে পড়ছে। অতি দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানাই।’

স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় দুই কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়নের জন্য ডিও লেটার পাস হয়েছে জানিয়ে যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতোয়ার বলেন, ‘অতি দ্রুতই রাস্তার কাজ শুরু হবে।’

 

এ জাতীয় আরও খবর

মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বোয়ালখালীতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা ছাড়াই চলছে সমঝোতার চেষ্টা

১৭ বছর পর ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ, টেস্ট হবে লর্ডসে

২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ফের শুরু

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তারেক রহমানকে মোদির আমন্ত্রণ

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সরকারের করণীয় নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গাজী নজরুলের বহিষ্কার জানিয়ে ইসিকে চিঠি জামায়াতের

ইরান ইস্যুতে কঠিন কূটনৈতিক চাপে ট্রাম্প

মানবিক সহায়তায় আলোচনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুরের বৈঠক

তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা