স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসিতে জামায়াতের ৯ দাবি
অনলাইন ডেস্ক : আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে নয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জামায়াতের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে কিছু বিষয়ে কমিশনের অসহায়ত্বও তারা লক্ষ্য করেছেন।
জামায়াতের অন্যতম দাবি হলো, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বাতিল করা। দলটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ভোটাধিকার প্রয়োগে অংশ নিয়ে আসছেন। ফলে শুধু স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে থাকা সমানাধিকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ ছাড়া সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। তবে ওই দলের সাধারণ সমর্থকদের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধের কথা দলটি বলেনি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। দলটির অভিযোগ, তিনি বিএনপির নির্বাচনবিষয়ক একটি সাব-কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এমন ব্যক্তির সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নির্বাচনী নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তৈরি করে বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার।
এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোতে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগেরও বিরোধিতা করেছে দলটি। নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এসব প্রশাসককে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে স্থায়ীভাবে অযোগ্য করার দাবি জানানো হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর পদত্যাগ করলেও যাতে তারা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সে বিষয়েও নিয়ম করার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত।
মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ ঠেকাতে কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছে দলটি। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
গোলাম পরওয়ার জানান, কিছু বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কমিশন নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে। জনমত ও নাগরিক সমাজের পর্যালোচনার প্রেক্ষাপটে কমিশন শেষ পর্যন্ত তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় দলীয়ভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে না। আগ্রহীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, এই সমঝোতা জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক। স্থানীয় নির্বাচনে দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশ নেবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো দলীয় সমঝোতা বা বাধ্যবাধকতা থাকবে না।











