ট্রাম্পের হুমকি, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
অনলাইনডেস্ক : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরান চুক্তিতে না এলে ইরানের অর্থনীতি আরও সংকটে পড়তে পারে এবং দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে পাল্টা আক্রমণের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
রোববার ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতাদের একটি সমঝোতায় আসা উচিত। তা না হলে দেশটির অর্থনীতি ধ্বংসের দিকে যেতে পারে কিংবা নেতৃত্ব ‘নিশ্চিহ্ন’ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে যেতে পারেন। তাঁর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ট্রাম্প আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালানো হবে। কোনো আঞ্চলিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে হামলায় সহযোগিতা করলে তাকেও সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সামরিক বাহিনী আরও দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। তবে ওই দাবির পক্ষে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত কয়েক মাস ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও নৌবাণিজ্যেও প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এর মধ্যে শনিবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদমুখী একটি ক্ষেপণাস্ত্রসহ কয়েকটি হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।
হুথিদের হামলার ঘটনায় লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল ও আকাশপথ বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে উত্তেজনা বাড়লেও কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। পেজেশকিয়ানের সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফর এবং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।











