,

মরিয়মের লেখা চিরকুটে সম্পর্কের টানাপোড়েন

news-image

অনলাইনডেস্ক : রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর হাতে লেখা বেশ কয়েকটি চিরকুট জব্দ করেছে পুলিশ। এসব লেখায় সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বাসভঙ্গ, কষ্ট, ক্ষোভ ও আত্মসম্মান নিয়ে নানা অনুভূতির কথা উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান চিরকুট উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এগুলো মরিয়মের নিজের লেখা কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া কয়েকটি চিরকুট সাদা কাগজে কালো ও লাল কালিতে লেখা। এর মধ্যে একটি লেখা ছিল ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ’ লেখা প্যাডে।
চিরকুটগুলোর লেখায় সম্পর্ক নিয়ে হতাশা ও আক্ষেপের পাশাপাশি বিশ্বাস করে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। কোথাও নিজের অবস্থাকে দাবার গুটির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, আবার কোথাও প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের আত্মসম্মান ধরে রাখার কথা বলা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া একটি লেখায় মরিয়মের পক্ষ থেকে অন্যের স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর বিষয়টি নিয়ে অনুশোচনা এবং ভালোবাসা ভাগাভাগি করতে না চাওয়ার কথা উঠে এসেছে।
আরেকটি চিরকুটে বিশ্বাস করে প্রতারিত হওয়ার আক্ষেপের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে একটি সতর্কবার্তার কথাও লেখা রয়েছে।
অন্য একটি লেখায় তিনি সম্পর্কের লড়াইয়ে নিজেকে পরাজিত মনে করার কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে যাঁকে নিজের পক্ষের মানুষ মনে করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁকেই বিপরীত পক্ষের হিসেবে দেখার কষ্টের কথা উঠে এসেছে।
লাল কালিতে লেখা আরেকটি ছোট বার্তায় নিজের আত্মসম্মানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আবেগ ও মায়ার কারণে বারবার নত হলেও তাঁকে যেন সহজে নেওয়া না হয়।
এ ছাড়া ‘১২-০৭-২০২৬’ তারিখ লেখা একটি পাতাও উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে ঘুমানোর আগে পড়ার জন্য কয়েকটি ধর্মীয় আমলের তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে কালেমা, দরুদ শরিফ, ঘুমের দোয়া, আয়াতুল কুরসি, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, আস্তাগফিরুল্লাহসহ কয়েকটি আমলের উল্লেখ রয়েছে।
রোববার শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। পরে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। সোমবার ওই মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর