রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কার্যাদেশের দুবছরেও শুরু হয়নি বেবিচকের ৯ ভবনের কাজ

news-image

গোলাম সাত্তার রনি
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নেওয়া ৯টি উন্নয়নমূলক ভবন নির্মাণ প্রকল্প দুই বছরেও শুরু হয়নি। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। তবে কার্যাদেশ দেওয়ার দুবছর পরও প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সব প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ঠিকাদারদের অভিযোগ রয়েছে, কার্যাদেশের পর তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান ঠিকাদারদের কাছে বড় অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি তৎকালীন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বন্ধ করে দেন।

এদিকে কাজ পাওয়ার পর ঠিকাদাররা ব্যাংক ঋণ নিয়ে নির্মাণসামগ্রী কিনে রাখেন। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এসব সামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণের সুদের চাপ বাড়তে থাকায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

অভিযুক্ত সাবেক প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯টি প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান করে নিয়ম মেনেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-কুর্মিটলায় ১৪ তলা আবাসিক ভবন (ব্যয় ২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, কার্যাদেশ ২৪ মে ২০২৪), কাওলায় একই ধরনের ভবন (২১ কোটি ৯৬ লাখ, ১০ জুলাই ২০২৪), সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে মসজিদসহ ভবন (২২ কোটি ৮৮ লাখ, ২ নভেম্বর ২০২৩) এবং তৃতীয় টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে স্টেকহোল্ডার ভবন (২৩ কোটি ৪৬ লাখ, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪)।

এ ছাড়া ক্যাব সদর দপ্তরের পূর্ব পাশে ৬ তলা ভবন (২০ কোটি ৩৭ লাখ, ১২ নভেম্বর ২০২৩), সেমসু অফিস কমপ্লেক্স (২০ কোটি ৭১ লাখ, ১৯ নভেম্বর ২০২৩), তেজগাঁওয়ে দুটি আবাসিক ভবন (২০ কোটি ৮৭ লাখ ও ২২ কোটি ৩৫ লাখ, ২৮ আগস্ট ২০২৩) এবং কুর্মিটলা আমবাগানে মসজিদসহ ভবন (২২ কোটি ৬০ লাখ, ৩ জুলাই ২০২৩) উল্লেখযোগ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজ বন্ধ থাকার পরও ঠিকাদাররা বিভিন্নভাবে প্রকল্পগুলো চালু করার চেষ্টা চালিয়ে যান। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি তারা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলে বেবিচকের প্রকৌশল বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করে চেয়ারম্যানের কাছে মতামত দেয়।

ওই মতামতে বলা হয়, প্রকল্পগুলো নিয়ম মেনেই অনুমোদন ও কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ শুরু না হওয়ায় ঠিকাদাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা আইনি পদক্ষেপ নিলে সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্পগুলোর মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে দ্রুত কাজ শুরুর অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে তিনজন প্রকৌশলী এ সুপারিশে স্বাক্ষর করেন।

তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রকল্পগুলো এখনও স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার বলেন, ‘আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বহুবার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান পাইনি। শুধু আশ্বাসে সময় কেটে যাচ্ছে। এখন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।’ তারা আরও বলেন, ‘আমরা কাজের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ব্যাংক ঋণ নিয়ে নির্মাণসামগ্রী কিনেছি। এখন সেগুলো পড়ে আছে, আর সুদের চাপ বাড়ছে।’

এ বিষয়ে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা আলোচনা করছেন এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বকাপ শেষে প্রথমবার জনসমক্ষে মেসি

সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুথিদের

২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যেসব ব্যক্তি

চাকরি নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান শিক্ষার্থীদের

দীর্ঘ প্রবাসে ডলি সায়ন্তনীর আবেগঘন বার্তা

গাজীপুর সিটির নতুন বাজেট ৫ হাজার ১০২ কোটি টাকা

বিদেশে ৮১ বাংলাদেশি মিশনে হবে ‘জুট কর্নার’

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে যাবে ইসি

বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

জেলা-উপজেলায় হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার’

প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ