নবীনগরে দফায় দফায় গোলাগুলি-ককটেল বিস্ফোরণ, গত ২৪ ঘণ্টায় মামলা ও গ্রেপ্তার হয়নি
শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্তী, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে দফায় দফায় গোলাগুলি, ককটেল বিস্ফোরণ, বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় নবীনগর থানায় কোনো মামলা হয়নি। নেই কোন গ্রেফতার। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
গত শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে চরলাপাং গ্রামে থেমে থেমে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ দুজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন চরলাপাং গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে ফুল মিয়া (৬০) ও একই গ্রামের জুলাস মিয়ার স্ত্রী উম্মে হানি (২২)। আহতদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ফুল মিয়া ও উম্মে হানিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ গ্রামে একের পর এক গুলির শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় ককটেল বিস্ফোরণ। এতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একপর্যায়ে হামলাকারীরা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ও ঘরের মালামাল ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর এবং নয়াহাটী বাজারের অন্তত ১০টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চরলাপাং গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অহিদ মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য মুসলেম মিয়ার মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সম্প্রতি নতুন করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কৃষকদের জমি চাষের কাজে ভাড়ায় ব্যবহারের জন্য মুসলেম মিয়া একটি ট্রাক্টর কিনে আনার পর ট্রাক্টর ভাড়ার ব্যবসা ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র হয়। একপর্যায়ে অহিদ মিয়া ও তাঁর ভাই উবায়দুল মিয়ার পক্ষের লোকজনের সঙ্গে মুসলেম মিয়ার পক্ষের লোকজনের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
অভিযোগ রয়েছে, শনিবার রাতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে বহিরাগত লোকজনও হামলায় অংশ নেয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার পর থেকে চরলাপাং গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে হামলা ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় কয়েকটি পরিবারের সদস্য গ্রাম ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।











