রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনকল্যাণে জিয়ার ‘গ্রাম সরকার’

news-image

গ্রাম এখন আর ‘অজপাড়া গ্রাম’ নেই। গ্রাম-জনপদের মানুষজন অনেক সচেতন। তারা দেশের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতকে নিয়ে ভাবেন। মন-মগজে আঁকেন নিজেদের মতো করে সুন্দর একটা বাংলাদেশের স্বপ্ন আর পরিকল্পনা। দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর বসবাস গ্রাম-জনপদে। গ্রামের বেশিরভাগ লোক কৃষিজীবী। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য, খামার, প্রবাসী, ক্ষুদ্র শিল্প-কারখানা, পরিবহন, মৎস্যজীবী, দোকানি, চাকরিজীবী মিলিয়ে বিচিত্র পেশায় তারা কর্মচঞ্চল। জাতীয় অর্থনীতিতে গ্রামীণ জনগণের বিশাল ভূমিকা ও অবদানের পরিধি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার ঈদুল ফিতর এবং ক’দিন বিরতি দিয়ে কাছাকাছি স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটিছাটা যোগ হয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের লম্বা ছুটিতে গ্রাম-জনপদ রূপান্তরিত হয় শহর কিংবা উপশহরে।

কর্ম আর পেশার ব্যবস্থায় যাদের বসবাস শহর-নগরে; প্রায় সবারই নাড়ির টান গ্রামবাংলায়। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্বে আসার পরিপ্রেক্ষিতে টানা ছুটির অবকাশে শহর-নগর-বন্দর ছেড়ে কোটি কোটি ‘শহুরে’ মানুষ ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় আপন ঠিকানায় ছুটে গেছেন। ‘শহুরে’ আর গ্রামের মানুষের মেলবন্ধনে গ্রামীণ কোলাহলের গত কিছুদিনের দৃশ্যপট ছিল আনন্দধারায় অভূতপূর্ব। গ্রাম ও শহর-নগরের মানুষের মিলনমেলায় পরস্পর ভাববিনিময়ের (মিথষ্ক্রিয়া) অপূর্ব সুযোগ তৈরি হয়। গ্রামীণ চা দোকানে আলাপে-আড্ডায় সরগরম হয় গ্রামের ‘সংসদ’ বা ‘গ্রামের পার্লামেন্ট’। সেইসব আড্ডায়-আলোচনায় মূলত উঠে আসে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজচিত্র, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির হালচাল ও প্রবাসীদের নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, গ্রাম-জনপদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যা-সম্ভাবনা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর মূল্যায়ন ইত্যাদি হরেক বিষয়।

আলোচনা-পর্যালোচনায় আরো উঠে এসেছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেই খালকাটা কর্মসূচি; যা তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি উদ্বোধন করলেন। একই সঙ্গে শহীদ জিয়ার গ্রামবাংলার উন্নয়ন ধারণার (কনসেপ্ট) আলোকে সেই ঐতিহাসিক ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার বিষয়টিও জোরালোভাবে তাগিদ এখনও উঠে আসছে গ্রাম-জনপদের সচেতন মানুষজনের আলাপচারিতায়। শহীদ জিয়ার লক্ষ্যটা ছিল গ্রামের উন্নয়ন ও জনকল্যাণের চাবিকাঠি গ্রামের মানুষের হাতেই তুলে দেয়া। বিশেষ করে গ্রামের প্রবীণদের আকুল প্রত্যাশা, শহীদ জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের হাত ধরে খালকাটা কর্মসূচির মতো ‘গ্রাম সরকার’ যুগোপযোগী করে পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলে গ্রামের সমস্যা-সঙ্কট, অভাব-অভিযোগ সুরাহা এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণের পথ সুগম হবে। যদিও নতুন প্রজন্মের নাগরিকরা ‘গ্রাম সরকার’ ধারণার সঙ্গে পরিচিত নয়।

১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ‘গ্রাম সরকার’ ধারণা প্রবর্তন করে গ্রামীণ জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে ক্ষমতার বাস্তব বিকেন্দ্রীকরণ করেন। যাতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরো, বিকেন্দ্রীকরণ, শক্তিশালী করা যায়। এতে গ্রামের সাধারণ জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ‘গ্রাম সরকার’ ধারণা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের সময় পাননি প্রেসিডেন্ট জিয়া। তার আগেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ‘গ্রাম সরকারে’র কার্যক্রমের আওতায় ছিলÑ গ্রাম-জনপদের ছোটখাটো বিরোধ-বিবাদ মীমাংসা, রাস্তাঘাট, খাল, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন কার্যক্রম, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা। এসব ক্ষেত্রে মামুলি ছোটখাট সমস্যার জন্য শহর-নগরে অফিসে অফিসে দৌঁড়ে হয়রানি আর পোহাতে হবেনা।

 

এ জাতীয় আরও খবর

আমড়া খাওয়ার এই উপকারিতাগুলো জানতেন?

কাহানি থ্রি-তে বিদ্যা বালান নয়, মূল চরিত্রে ইয়ামি গৌতম

২০২৬-২৭ অর্থবছর: রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে : আইনমন্ত্রী

যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ২০

কলকাতার ‘পাখি’ এবার ঢাকাই সিনেমার ‘চামেলি’

সৌদিতে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তার

স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল স্ত্রীরও

সাত মাসের মেয়েকে হত্যার মামলায় বাবার ৩ দিনের রিমান্ড

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

রেমিট্যান্সে বড় গতি, ২৫ দিনে এলো ২৮ হাজার কোটি টাকা