,

মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা চান সিভিল সার্জনরা

news-image

তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে গতকাল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সিভিল সার্জনদের ফটোসেশন – পিআইডি

অবৈধ ক্লিনিক, ভুয়া চিকিৎসক, দালাল চক্র ও ভেজাল ওষুধ নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা চেয়েছেন সিভিল সার্জনরা। এ ছাড়া হাসপাতালের নিরাপত্তায় আনসার বা ‘স্বাস্থ্য পুলিশ’ দেওয়ার প্রস্তাব দেন তারা। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত প্রথমবারের মতো সিভিল সার্জন সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন এই প্রস্তাব দেন।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। চিকিৎসকদের দায়িত্ব, সৃজনশীলতা, মননশীলতা ও সক্ষমতা নিয়ে চিকিৎসাসেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের যতটুকু চিকিৎসা সরঞ্জাম বা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, এই পরিস্থিতির মধ্যে যদি আমরা পরিবর্তনের জন্য নিজের মন ঠিক করতে পারি তাহলে আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ২৫ শতাংশ উন্নতি হয়ে যাবে।’

আজ শেষ দিন সম্মেলনের কার্য অধিবেশনগুলো অনুষ্ঠিত হবে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বিপরীত পাশে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে। গতকাল সরকারের পক্ষ থেকে করণীয় বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ও মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ, জনবল নিয়োগ, প্রমোশন এবং স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন।

সম্মেলনে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম কোভিড মহামারী ও জুলাই আন্দোলনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা করায় সব চিকিৎসককে অভিনন্দন জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবায় সিভিল সার্জনরা মূল কাণ্ডারি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে আমাদের যথেষ্ট সাফল্য থাকলেও ওষুধখাত, যন্ত্রপাতিসহ জনবলের ঘাটতি প্রকট থাকায় এ খাত এখনও অনেকটাই পিছিয়ে। কিন্তু সিভিল সার্জনরা তাদের মেধা-মনন ও দায়িত্বশীলতা কাজে লাগিয়ে চিকিৎসাখাত সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’

সাত হাজার সুপার নিউমারি পদ সৃষ্টি করে প্রমোশনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। শুধু ডাক্তার নয়, নার্সও নিয়োগ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, প্রমোশন, পদায়ন, বাজেট, ওষুধের অপ্রতুলতা ইত্যাদি সমস্যার সমাধান হলেই স্বাস্থ্যখাতের উন্নতি সম্ভব। স্বাস্থ্যখাত পুনর্গঠনের জন্য ইউনিক হেলথ কার্ড করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. জিল্লুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবু জাফর, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান প্রমুখ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

হাওর অঞ্চল ও রাজধানীর পাশের এলাকা থেকে সম্মেলনে যোগ দিতে আসা দুজন সিভিল সার্জন জানান, চিকিৎসার কাজে বড় বাধা যোগ্য জনবলের অভাব, স্থানীয় প্রভাবশালীদের দাপট, ভেজাল ওষুধ, ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও দালাল চক্রের উৎপাত। এসব সমস্যা দূর করতে না পারলে জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তাদের ভাষ্য, সবচেয়ে হতাশার বিষয় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে টেস্ট করার মতো উপযুক্ত ল্যাব নেই। ফলে ভুল রেজাল্টের ভিত্তিতে চলছে চিকিৎসা, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ থেকে উত্তরণের জন্য অবৈধ পন্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো দরকার।

 

এ জাতীয় আরও খবর

মাদক প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলে ৮ শিক্ষক নিয়োগ

নির্বাচন সামনে রেখে ‘ক্লিনহার্ট’ অভিযান নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের জানাজা সম্পন্ন

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ

নবীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আইভীর স্লোগানের পর আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, বিমানবন্দর সড়কে যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, কাজ করছে ২০ ইউনিট