সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবজির স্বস্তি ম্লান চালের দরে

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুই সপ্তাহ ধরে সবজির বাজারে স্বস্তি রয়েছে। তবে ক্রেতার উচ্ছ্বাস মিইয়ে যাচ্ছে চাল কিনতে। এক মাস ধরে বাড়ছে প্রধান খাদ্যশস্যটির দাম। সব ধরনের চাল কেজিতে সর্বোচ্চ ৪ টাকার মতো বেড়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার কারণে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে সবজির দর ছিল আকাশচুম্বী। বেশ কয়েকটি তো সেঞ্চুরি ছাড়িয়ে যায়। তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে কমছে সবজির দর।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মগবাজার, কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজারে এ চিত্র দেখা যায়। ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে পটোল, যা মাসখানেক আগেও ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। প্রায় সব সবজির দর অর্ধেকে নেমেছে। এক মাস আগের ১৫০ টাকার বেগুন ও করলা এখন মিলছে অর্ধেকের কম দামে। ১০০ টাকার বরবটি কেনা যাচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। যদিও চড়া দরে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্য পরিবহনে পুলিশ ও দলীয় কর্মীর চাঁদাবাজি কমে গেছে। বাজারেও তেমন কেউ বাগড়া দিচ্ছে না। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমবে।

চালের দর বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। মোটা, সরু ও মাঝারি– সব ধরনের চাল কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা। প্রতি কেজি মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) ৫২ থেকে ৫৫ এবং মাঝারি চাল (বিআর-২৮ ও পাইজাম) ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মানভেদে সরু চালের কেজি (মিনিকেট ও নাজিরশাইল) বিক্রি হচ্ছে ৬৪ থেকে ৭৮ টাকায়। মাসখানেক আগেও মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৩ এবং মাঝারি চালের কেজি ছিল ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা। তখন সরু চালের কেজি ছিল ৬২ থেকে ৭৬ টাকা। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য, এক মাসে চালের দর বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ।

তবে এক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধির হার আরও বেশি– ৯ শতাংশ। দাম বৃদ্ধিতে খুচরা-পাইকারি ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা একে অপরকে দায়ী করছেন। খুচরা-পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মিলাররা কোনো কারণ ছাড়াই দাম বাড়াচ্ছেন। যদিও মিলারদের যুক্তি, ধানের সংকট রয়েছে। সরকারকে মিল পর্যায়ে খোঁজখবর নিয়ে বাজার স্বাভাবিক রাখার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে।

কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী ইসমাইল অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন বলেন, এক মাস ধরে বাড়ছে চালের দাম। প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। মিলাররা ধান সংকটের অজুহাত দিচ্ছেন। উৎপাদন এলাকার মিল পর্যায়ে ধান-চালের মজুতের পরিমাণ তদারকি করলে আসল চিত্র বের হবে। সরকারের উচিত এখনই তদারকি বাড়ানো।

অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, প্রতি বছর এ সময় ধান-চালের দর একটু বেশি থাকে। কারণ এখন ধানের মৌসুম নয়। ধানের মজুত কমে এসেছে। তাই যারা মজুত করছেন, তারা কিছুটা বেশি দরে ধান বিক্রি করছেন। দুই মাস পর আমন উঠলে কেজিতে অন্তত ৫ টাকা কমে যাবে।

এদিকে কিছুটা বাড়তি দর দেখা গেছে ডিমের বাজারে। এক মাসে ডিমের ডজনে ৫ টাকার মতো বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। তবে মুরগির বাজার অপরিবর্তিত। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৭৫ ও সোনালি ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারও কিছুটা নিম্নগতি। বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়ার কারণে অন্য মাছের চাহিদা কমেছে। দামও পড়তি। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকায়। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেনা যাচ্ছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ টাকায়।

আলুর কেজি ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় স্থিতিশীল। যদিও মহল্লায় মিলছে না ৬০ টাকার নিচে। দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ ও পাকিস্তানি পেঁয়াজ ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর

লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

শেয়ার জালিয়াতির মামলায় আসামি সাহাবুদ্দিন

শাপলা চত্বরে হত্যা মামলায় ৪১ আসামি, তালিকায় হাসিনা-আজিজ-বেনজীর

‘স্পিরিট’-এ দীপিকার বদলে ক্যাটরিনা, বাড়ছে জল্পনা

প্রযুক্তি ও গবেষণায় স্বনির্ভর হতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

রাজধানীতে আতঙ্ক, সক্রিয় ভাড়াটে খুনিদের তালিকা হালনাগাদ

ঢাকার বায়ুমান আজ সহনীয় পর্যায়ে

থার্ড টার্মিনাল দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন বিমানমন্ত্রী

আন্দোলনে গতি ফেরাতে সক্রিয় হন তারেক রহমান, আসে তিন দাবির আলটিমেটাম

মার্কিন হামলা বন্ধ থাকলে পাল্টা হামলাও বন্ধ রাখবে ইরান

ঢাকায় তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই