,

হরমুজ বৈঠক স্থগিত, জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

news-image

অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত হওয়ায় কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে হামলা এবং জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বৈঠকটি সোমবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও রোববার রাতে তা স্থগিতের ঘোষণা দেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর আলবুসাইদি। ‘ঐকমত্যের স্বার্থে’ বৈঠকটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বৈঠকে ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে হওয়া একটি সমঝোতার বিষয় তুলে ধরা হবে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের অনুরোধের পর তেহরান ও মাসকাটের যৌথ সিদ্ধান্তে বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী তারিখ নির্ধারণে দুই দেশ আলোচনা করবে।

এদিকে বৈঠক স্থগিতের পাশাপাশি সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প এই পাইপলাইনটি শুক্রবার হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।

পরিস্থিতির প্রভাবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত সপ্তাহে জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, রোববার প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি জাহাজে নিক্ষিপ্ত বস্তু আঘাত করলে আগুন ধরে যায়। পরে জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়। ইরানের পক্ষ থেকেও দেশটির উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কথা জানানো হয়েছে, যাতে একজন নিহত ও চারজন ক্রু আহত হয়েছেন।

জাহাজ চলাচলের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা দিনে এক অঙ্কে নেমে আসে। অথচ আগের ১০ দিনে গড়ে প্রতিদিন ১৪টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছিল। তবে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে চলাচল করা জাহাজগুলো এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।

সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির বাজারে চাপ বেড়েছে। রোববার দেশটিতে ডিজেলের খুচরা মূল্য গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ২০ ডলারের ওপরে উঠে নতুন রেকর্ড করেছে।

সৌদি তেল ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বরাতে জানা গেছে, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে থাকা মজুত তেল দিয়ে সৌদি আরব সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারবে। এরপর বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাইপলাইনটির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এটি কতদিন বন্ধ থাকবে, সেটিও নিশ্চিত নয়। বিভিন্ন সূত্র বলছে, মেরামতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। স্যাটেলাইট ছবিতে পাইপলাইনের কয়েকটি স্থান থেকে বড় ধরনের ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওমানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না।

চলমান পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। আয়ারল্যান্ড সফরে তিনি বলেন, চলতি বছরেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান হতে পারে। এমনকি নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম দ্রুত কমে যাবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।