৪০ ঘণ্টা পর আসাদুলের মরদেহ হস্তান্তর
অনলাইন ডেস্ক : প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি আসাদুল হকের মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
রোববার সন্ধ্যায় চান্দেরহাট সীমান্তের ৩৩৪ নম্বর এস পিলারের বুড়া দিঘির পাড়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে রাত ৯টার দিকে দানাজপুর বিওপি সীমান্ত দিয়ে আসাদুলের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। পরে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ও ভারতের রায়গঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন।
এর আগে শনিবার ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৩৩৩ নম্বর প্রধান সীমান্ত পিলারের কাছে গুলির ঘটনা ঘটে। নিহত আসাদুল হক ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদ আলীর ছেলে।
এ ঘটনায় একই এলাকার ওয়াহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম এবং মুনষা নারায়ণের ছেলে উধা চন্দ্র রায় আহত হন। এ ছাড়া আইয়ুব আলী নামে আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আইয়ুব আলীর নেতৃত্বে পাঁচজন ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া কেটে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় ভারতের কালিয়াগঞ্জের চকশিবানন্দ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে আসাদুল গুলিবিদ্ধ হন এবং মোস্তাকিম ও উধা চন্দ্র রায় আহত হন।
পরে আসাদুল, মোস্তাকিম ও উধা চন্দ্র বিএসএফের নিয়ন্ত্রণে যান। আইয়ুব আলীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গুরুতর আহত তিনজনকে বিএসএফ সদস্যরা ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুলের মৃত্যু হয়।
নিহত আসাদুল দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন। তার উপার্জনের ওপরই পরিবারের ভরণপোষণ নির্ভর করত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাজাহান আলী জানান, নিহত ও আহত তিনজনই তার এলাকার বাসিন্দা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তারা আসাদুলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। আহত মোস্তাকিম ও উধা চন্দ্র রায়কে পরে রায়গঞ্জ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।











