,

কানের ভেতর শোঁ শোঁ শব্দও একধরনের রোগ!

news-image

বয়সজনিত কারণে কানের সমস্যা, ইনজুরি অথবা সারকুলেটুরি সিস্টেম ডিসঅর্ডারের লক্ষণরূপেও কানে শোঁ শোঁ শব্দ বা টিনেটাস হতে পারে। পৃথিবীতে প্রতি পাঁচজনের একজন টিনেটাস রোগে ভুগে থাকেন। যদি কোনো ব্যক্তি কানে ভোঁ ভোঁ, বাতাসের শব্দ শোঁ শোঁ, ঘণ্টার ধ্বনি অনবরত শুনতে থাকে, তখন এ ধরনের কন্ডিশনকে বলে টিনেটাস। যে জায়গায় শব্দদূষণ বেশি, সেখানকার মানুষের এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। টিনেটাস সমস্যায় নারীর চেয়ে পুরুষই বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

কারণ : টিনেটাস রোগের সমস্যা কানের মধ্যে হলেও এর উৎপত্তিস্থল মস্তিষ্ক। আমাদের মস্তিষ্ক অনেক নার্ভ দিয়ে গঠিত। একেক নার্ভের কাজ একেক রকম। মস্তিষ্কের যে অংশ দিয়ে শব্দ প্রক্রিয়াজাত করা হয়, সেই অংশের নাম অডুটরি করটেক্স। আর এ অংশের মধ্যে থাকে অষ্টম ক্রেনিয়াল নার্ভ ভেসটিবুলোকোকলিয়ার। এ নার্ভের সমস্যা হলে টিনেটাস হয়ে থাকে। আবার অন্তঃকর্ণের কোষের সমস্যার কারণেও টিনেটাস হতে পারে। আমাদের কানের ভেতর ক্ষুদ্র লোম আছে, যেগুলো শব্দতরঙ্গের সঙ্গে নড়াচড়া করে। এ কোষগুলো এক ধরনের ইলেকট্রিকাল সিগন্যাল অষ্টম ক্রেনিয়াল নার্ভের মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কে পাঠায়। মস্তিষ্ক এ সিগন্যালের প্রতিক্রিয়ারূপে সিগন্যাল পাঠায়। এজন্য আমরা শব্দ শুনতে পাই। যদি এ লোমগুলো ছিঁড়ে যায় বা সঠিকভাবে কাজ না করে, তখন মস্তিষ্কে অনিয়মিত ভুল ইলেকট্রিকাল ইমপালস পৌঁছায়। ফলে টিনেটাস আক্রান্ত ব্যক্তি কানে অ্যাবনরমাল শব্দ, যেমনÑ ভোঁ-ভোঁ ঝিঁঝি, শোঁ-শোঁ, ঘণ্টার ধ্বনি শুনতে পায়। এছাড়া উচ্চ শব্দস্বর, কানে ময়লা জমা হলে এবং কানের মধ্যে এবনরমাল হাড় বেড়ে গেলেও টিনেটাস হতে পারে।

যারা ঝুঁকিতে : বয়স ৫০ বছরের বেশি হলে, অসহনীয় উচ্চ শব্দস্বর, ধূমপান, কার্ডিওভাসকুলার সমস্যায় যারা আক্রান্ত থাকে, তাদের এ ধরনের সমস্যা হয়।

লক্ষণ : অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করা, মানসিক চাপে থাকা, ঘুমের সমস্যা দেখা দেওয়া, মনোযোগে বিঘ্ন, বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও বিরক্তি প্রকাশ।

চিকিৎসা : টিনেটাস রোগে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকর। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে টিনেটাস থেকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া যায়। ফিজিওথেরাপিউটিক এক্সারসাইজ মধ্যে রয়েছেÑ দুহাত দিয়ে কানের পেছন থেকে সামনের অংশে ৭০ থেকে ৭৫ বার ঘষতে হবে। বৃদ্ধাঙুল সোজা রেখে কানের ভেতরে ও বাইরে নিন। ৭০-৭৫ বার এ ব্যায়ামটি করতে হবে।

যেভাবে ব্যায়াম করবেন : দুহাত মাথার পেছনে নিয়ে ঘাড়ের ওপরের অংশে যে গর্ত আছে, ঠিক তার ওপরে যে উঁচু জায়গা আছে, সেখানে ইনডেক্স ফিঙ্গার দিয়ে ৭০-৭৫ বার মাথায় চাপ দিন। এর পর কপালের দুপাশে ঘষতে হবে (৫-১০) বার। মাথার পেছনে, কানের ওপরে ও পাশে কিছু ট্রিগার পয়েন্ট আছে, যেগুলোয় ডিপফ্রিকশন করলে অল্প দিনের মধ্যে টিনেটাস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

সর্তকতা : অনেকেই না জেনে উচ্চৈস্বরে হেডফোনে গান শুনি, বাদ্যযন্ত্র বাজাই, পিস্তল এবং মেশিনগান চালাই। এতে টিনেটাস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই এসব কাজ করার আগে কানের প্রোটেকশন ব্যবহার করতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে প্রচুর পানি পান করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রাখতে পারেন।

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না