,

নরসিংদীর ৫ বধ্যভূমিতে হচ্ছে স্মৃতিস্তম্ভ

news-image

মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং নতুন প্রজন্মের সামনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে এবং নরসিংদীর পাঁচটি বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিসৌধ। জেলার এ পাঁচটি বধ্যভূমি হলো- সদর উপজেলার পাঁচদোনা ও পশ্চিম দত্তপাড়া, বেলাব উপজেলার বড়িবাড়ী, পলাশ উপজেলার বারারচর এবং রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা।

সদর উপজেলার পাঁচদোনা বধ্যভূমিতে গিয়ে দেখা যায়, একটি মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে সৃতিসৌধ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিন পরে হলেও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হওয়ায় খুশি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতনমহল।

১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নরসিংদী পাকিস্তান হানাদারমুক্ত হয়। এর আগে দীর্ঘ ৯ মাস জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক খ-যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। ওই খ-যুদ্ধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্মমতার শিকার হয়ে শহীদ হন ১১৬ জন বীর সন্তান। এর মধ্যে ছিলেন নরসিংদী সদরের ২৭, মনোহরদীর ১২, পলাশে ১১, শিবপুরের ১৩, রায়পুরায় ৩৭ ও বেলাব উপজেলার ১৬ জন। এ ছাড়া বহু মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নরসিংদী হানাদারমুক্ত হয়।

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আবু নঈম মো. মারুফ খান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণের লক্ষ্যে জেলার সব বধ্যভূমিতে কিছু দিনের মধ্যে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া বধ্যভূমিগুলো সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে জেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সমুন্নত রাখতে ২০০৫ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিফলক নির্মিত হয়। তবে নরসিংদী শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো শহীদদের নামে নামকরণ করার কথা থাকলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা ব্রিজসংলগ্ন এলাকা, শীলমান্দী মাছিমপুর বিল, খাটেহারা ব্রিজ, শিবপুরে ঘাসিরদিয়া, বেলাবর আড়িয়াল খাঁ নদীর পাশে বড়িবাড়ি, রায়পুরার মেথিকান্দা রেলস্টেশনের পার্শ্ববর্তী স্থান ও মনোহরদী উপজেলার পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীকে ধরে এনে নির্বিচারে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখেছিল পাকিস্তানি সেনারা।

বেলাবর বড়িবাড়ি বধ্যভূমি : প্রতি বছর ১৪ জুলাই বেলাবর বড়িবাড়ি এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীরা জানান, ১৯৭১ সালের ওইদিন পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধাসহ বেলাব ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার ৬৮জন নিরীহ গ্রামবাসীকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী। নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে হত্যা করে তাদের লাশ ফেলে দেওয়া হতো আড়িয়াল খাঁ নদীতে। এ রকম অনেক লাশ নদী থেকে উঠিয়ে আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে বড়িবাড়িতে একসঙ্গে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এ স্থানটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হচ্ছে।

রায়পুরার মেথিকান্দা বধ্যভূমি : মেথিকান্দা রেলস্টেশনসংলগ্ন রেললাইনের পাশে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। পার্শ্ববর্তী বর্তমান উপজেলা পরিষদের টর্চার সেলে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় পাঁচ মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় ৩০ জন নিরীহ মানুষকে। তাদের ওই স্থানেই মাটিচাপা দেওয়া হয়। প্রতি বছর এখানে শহীদদের স্মরণে জড়ো হন মুক্তিযোদ্ধারা। এখানে নির্মাণ হচ্ছে স্মৃতিস্তম্ভ। তিন ফুট উঁচু করে দেওয়া হয়েছে একটি ওয়াল। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, সেক্টর কমান্ডার বীরউত্তম নূরুজ্জামান, বীরবিক্রম খন্দকার মতিউর, বীরবিক্রম শাহাবুদ্দিন ও বীরপ্রতীক মোবারক হোসেনসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার জন্মভূমি রায়পুরা।

পাঁচদোনা লোহারপুল বধ্যভূমি : সদর উপজেলার পাঁচদোনার লোহারপুল বধ্যভূমি ৭১-এ পাক বাহিনীর নির্মমতার সাক্ষী। মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৭ থেকে ২৮ জনকে ধরে নিয়ে পাকিস্তান সেনাদের ক্যাম্প নরসিংদীর টেলিফোন এক্সচেঞ্জে আটকে রাখা হয়। নির্যাতন শেষে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বর্তমান ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচদোনা মোড়সংলগ্ন লোহারপুলের নিচে। সেখানে ৪ থেকে ৫ জনকে বসিয়ে রেখে তাদের সামনে ২০ থেকে ২২ জনকে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা। হত্যার পর সেখানেই মাটিচাপা দেওয়া হয় তাদের। ওই স্থানটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না