,

প্রথমবারের মতো রপ্তানি আয় ৫০০ কোটি ডলার

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : আমদানিতে এলসি খুলতে না পারা, ডলার সংকট এবং অর্থনীতির বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে সুখবর নিয়ে এলো দেশের রপ্তানি আয়। বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতায় সৃষ্ট নানা শঙ্কার মধ্যেই রেকর্ড রপ্তানি আয় হয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বরে দেশের রপ্তানি আয় প্রথমবারের মতো ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই কোনো একক মাসে এত বেশি রপ্তানি আয় আসেনি।

গতকাল রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫০৯ কোটি ২৫ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি। আর আগের বছরের নভেম্বরের চেয়ে এই আয় ২৬ শতাংশ বেশি। গত বছরের নভেম্বরে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৪০৪ কোটি ১৪ লাখ ডলার। রপ্তানি আয়ে সুসংবাদ এমন সময়ে এলো যখন বাংলাদেশ বিদেশি মুদ্রার সংকটে ভুগছে। রিজার্ভ সামাল দিতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ধরনা দিচ্ছে।

এর আগে দেশে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় এসেছিল চলতি বছরের জুনে, ৪৯০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এরপর ধারাবাহিকভাবে রপ্তানি আয় কমে গিয়ে গত সেপ্টেম্বরে তা ৩৯০ কোটি ডলারে নেমে আসে। পরের মাস অক্টোবরে তা বেড়ে ৪৩৫ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। এরপর নভেম্বরে দেশের ইতিহাসে প্রথম রপ্তানি আয় ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেল।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে বিপর্যস্ত, ঠিক সে সময় রেকর্ড রপ্তানি আয় হয়েছে বাংলাদেশের। গ্যাস-বিদ্যুতের পাশাপাশি ডলার সংকটের এ সময়টাতে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ থেকেও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের আশঙ্কা দূর করে রেকর্ড রপ্তানি এলো দেশে।

গতকাল প্রকাশিত ইপিবির হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ১৯৮ কোটি ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। আর এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

বরাবরের মতো রপ্তানি আয়ের ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৩৭ কোটি ৮৯ লাখ ডলার, যা আগের মাসের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। গত অক্টোবরে তৈরি পোশাক থেকে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩৬৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

চলতি বছরের পাঁচ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৮৩৩ কোটি ১২ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে নিট পোশাক থেকে ১ হাজার ১১ কোটি ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। একই সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৮২১ কোটি ৭৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রপ্তানি আয় প্রথমবারের মতো ৫০০ কোটি ডলার ছাড়ালেও তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক এবং জুতা ছাড়া অন্য প্রায় সব খাতের রপ্তানি কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে কৃষিপণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ২৩ শতাংশ। একই সময়ে হিমায়িত মাছ ২৭ শতাংশ, রাসায়নিক ২১ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্য ১১ শতাংশ, বিশেষায়িত টেক্সটাইল ৪০ শতাংশ এবং প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি কমেছে ৪৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে ঈর্ষণীয় প্রবৃদ্ধিতে থাকা হোম টেক্সটাইলের পণ্য রপ্তানিও চলতি অর্থবছরে ৮ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে প্রথম রপ্তানি আয় ৫ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক পার হয়। এর আগে এক অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় এসেছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে, ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলার। এরপর মহামারী করোনার কারণে দেশের রপ্তানি আয় কমে গিয়েছিল। তবে ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে এ আয়ে বড় অঙ্কের প্রবৃদ্ধি দেখা দেয়।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না