,

সাদিও মানের জীবনবোধের গল্প

news-image

অনলাইন ডেস্ক : সেনেগাল ফুটবলের পোস্টার বয় সাদিও মানে। পিছিয়ে থাকা জনপদে কঠোর দারিদ্রতার মধ্যে যার বেড়ে ওঠা। ফুটবলের মাধ্যমে সেই দারিদ্রতা দূর করেছেন মানে। সাফল্য-খ্যাতিতে ভরা তার জীবন। তবে মানে কখনোও নিজের অতীত ভুলে যাননি। বরং মানুষের পাশে থাকাটাকেই নিয়েছেন জীবনের ব্রত হিসেবে।

সময়ের সেরা ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মানের নাম ওঠে আসবেই। ফুটবল খেলে অর্থ উপার্জন করছেন দুহাত ভরে। তবে ৩০ বছর বয়সী এই তারকা কখনও বিলাসবহুল গাড়ি-বাড়ির দিকে ছোটেননি। সবসময় চেয়েছেন, তার আশপাশের মানুষ যেন মুখে হাসি নিয়ে থাকতে পারে।

এ মৌসুমের শুরুতে লিভারপুল অধ্যায়ের ইতি টেনে বুন্ডেসলিগার দল বায়ার্ন মিউনিখে নাম লেখান মানে। ৬ বছরের লিভারপুল অধ্যায়ে তিনি জিতেছেন সম্ভাব্য প্রায় সব কিছু। দলবদলের আগে যিনি বলেছিলেন, সেনেগালের মানুষের কথা শুনে লিভারপুলে থাকা বা না থাকার সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।

আসলে মানের হৃদয়ে সঙ্গে মিশে আছে সেনেগালের মানুষ। বিশেষ করে যে অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন তিনি, সেখানকার লোকজন। মানের জন্মশহর বাম্বালি ‍উত্তর আফ্রিকার পশ্চিমপ্রান্তের খুবই ছোট্ট একটি শহর। দারিদ্রপীড়িত এই শহরে মাত্র ২ হাজার মানুষের বাস। কাসামান্স নদীর তীরবর্তী মানের গ্রামটি রাজধানী থেকে ৭ ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। মূলত এখানকার মানুষের পেশা মাছ ধরা। পাকা কোনো রাস্তা নেই, মানুষের মাঝেই গরু-ছাগল ঘুরে বেড়ায় সেখানে। শহরে একটা হাসপাতাল না থাকায় নারীরা নিজ ঘরেই সন্তান প্রসব করতেন।

গ্রামটির আরও অনেকের মতো মানের বাবাকেও পৃথিবীর মায়া ছাড়তে হয় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা না পেয়ে। পরে নিজ গ্রামে হাসপাতাল নির্মাণ করেছেন মানে। তৈরি করেছেন স্কুলও, যে স্কুলে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়া হয়।

নতুন একটি গ্যাস স্টেশনেও অর্থায়ন করেছেন মানে। একটি সম্প্রদায়ের সমস্ত শিশুদের মাঝে ক্রীড়াসামগ্রী দান করেছেন। ডাকঘর, খেলার মাঠও গড়ে দিয়েছেন। এমনকি একটি শহরের জন্য ৪জি নেটওয়ার্কের ব্যবস্থাও করেছেন।

সেনেগালের এই অতিদরিদ্র অঞ্চলের সবাইকে প্রতি মাসে ৭০ ইউরো দিয়ে থাকেন মানে। মানে এভাবেই মানুষের পাশে থেকেই আনন্দ খুঁজে পান, ‘আমার অভিনব গাড়ি, বিলাসবহুল বাড়ি, ভ্রমণ এবং বিমান দেখানোর দরকার নেই। জীবন আমাকে যা দিয়েছে, আমার লোকেরা তার কিছুটা হলেও পাবে-এটাকেই প্রাধান্য দেই আমি।’

২০১৯ সালে ঘানাইয়ান একটি আউটলেটেও মানের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছিল তার এই গভীর জীবন বোধ, ‘আমি কেন ১০টি ফেরারি (গাড়ি), ২০টি ডায়মন্ডের ঘড়ি বা দুটি বিমান চাইব? এই জিনিসগুলো আমার এবং বিশ্বের জন্য কী কাজে আসবে?’

‘আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম এবং একসময় মাঠে কাজ করতাম। কঠিন সময়ে আমাকে টিকে থাকতে হয়েছে, আমি ফুটবল খেলেছি খালি পায়ে। আমার লেখাপড়ার সুযোগ এবং আরও অনেক কিছু ছিল না। কিন্তু আজ ফুটবলের মাধ্যমে যা উপার্জন করি তা দিয়ে মানুষের সাহায্য করতে পারি।’- বলেন মানে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না