,

রংপুর বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে জমেছে, পানি, আলুর ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা  

news-image

হারুন উর রশিদ সোহেল,রংপুর : রংপুর নগরীসহ বিভাগজুড়ে গত দুই দিনের বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে বৃষ্টির পানি জমেছে। এতে আলুসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, আর কয়েকদিন পরেই জমি থেকে আলু তোলা শুরু হতো। কিন্তু মাঘের শেষে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে এখন বেশির ভাগ আলুর জমি পানির নিচে।কৃষকরা বলছেন, এই অবস্থা আরও ২-৩ দিন স্থায়ী হলে আলু ছাড়াও সরিষা, গম, সবজিসহ অন্যান্য ফসলও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি সম্মুখিন হবেন।

শনিবার রংপুর নগরীর তামপাট, মাহিগঞ্জ, সাতমাথা বালাটারি, নব্দীগঞ্জ, পীরগাছার দেউতি ও গুনজর খাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে। এই পরিস্থিতি নগরী ছাড়াও মিঠাপুকুর, পীরগাছা, কাউনিয়া, হারাগাছ, গঙ্গাচড়া, বদরগঞ্জ, শ্যামপুর অঞ্চলের বিভিন্ন্ এলাকায় দেখা গেছে।জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় জেলার বেশির ভাগ আলুর জমিতে পানি জমেছে। কৃষকরা কিছু কিছু জমি থেকে আগাম জাতের আলু তুললেও বেশির ভাগই এখনও উঠানো হয়নি। জমিতে পানি জমে থাকায় তারা হতাশায় ভুগছেন। এখন কোথাও কোথাও জমি থেকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও আলু তোলা হচ্ছে।

নগরীর তামপাট এলাকার কৃষক হুমায়ন রশিদ শাহিন ও নুর হোসেন মিয়াসহ অনেকেই জানান, শুক্রবারের বৃষ্টির পর শনিবার সকাল থেকেই জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা প্রায় ২০০ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করেছেন। দুই দিনের বৃষ্টিতে আলুগাছ পানিতে তলিয়ে গেছে। জমে থাকা পানি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পুনরায় বৃষ্টি হলে ব্যাপক ক্ষতি হবে। যদি রোববার অথবা সোমবার থেকে টানা রোদ ওঠে তাহলে আলু কিছুটা রক্ষা পেতে পারে।পীরগাছা উপজেলার হাউদারপাড়া গুনজর খা এলাকার কৃষক বোরহান কবির বিপ্লব জানান, ৮ একর জমিতে এবার আলুর আবাদ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে বৃষ্টি শুরু হলে শুক্রবার সকাল থেকে আলুখেতের নালা দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু দুপুর থেকে আবার বৃষ্টি শুরু হওয়াতে তিনি এখন ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

একই উপজেলার পারুল এলাকার ফুল মিয়া, শাহালম ও অন্দানগর এলাকার হামিদ মিয়া জানান,এ বছর আলুর ফলন বাম্পার হলেও বাজারে তেমন দাম নেই। আগাম আলু সংরক্ষণ ও বাইরে রপ্তানির কোনো সুযোগ না থাকায় আমরা দাম পাচ্ছি না। তার ওপর দুই দিনের বৃষ্টিতে আলু নিয়ে তো আরও সমস্যা বেড়ে গেল। আর্থিকভাবে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চাষাবাদ ছেড়ে দিতে হবে।এদিকে শুধু আলু নয় আলুর পাশাপাশি সরিষা, গম ও শাক-সবজি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অন্য চাষিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান বাজারে প্রতি বস্তা ইস্ট্রিক, ডায়মন্ড, কার্ডনাল জাতের আলু ৫শ টাকা থেকে ৬শ টাকা এবং গ্রানুলা জাতের আলু ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। যা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে পাইকারি কেজি দরে ৫ থেকে ৭ টাকা করে। কিন্তু এসব আলুতে উৎপাদন খরচ হয়েছে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১১ টাকা করে। গত দুদিনের বৃষ্টির পর কেজিতে কৃষকের উৎপাদন খরচ অনুযায়ী ৪ থেকে ৫ টাকা করে লোকসান হবে বলে মনে করছেন তারা।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মাহবুবার রহমান বলেন, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই অঞ্চলে ৯৭ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদন করা হয়েছে। এ বছরও একই পরিমাণ জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর জেলায় ৫১ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর আগাম জাতের আলু রয়েছে। এসব আলু উত্তোলন করে কৃষকরা অন্য ফসল রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলায় ৫৫ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবারের পর রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির প্রভাব কমে আসবে। বৃষ্টির ফলে দিনের তাপমাত্রা আরও একটু কমে আসবে।

 

 

 

এ জাতীয় আরও খবর

৩৫ বছর পর আজ সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল