,

একসঙ্গে খোঁড়া হলো ৮টি কবর

news-image

কবরস্থানে আটজনের জন্য সারি ধরে আটটি কবর খোঁড়া হয়েছে। জয়পুরহাট কেন্দ্রীয় কবরস্থানে খোঁড়া হয় এসব কবর। শহরের আরামনগর এলাকার মানুষ এর আগে কখনো একসঙ্গে এত কবর খোঁড়া দেখেননি।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে আটজনের মরদেহ জয়পুরহাট কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় শত শত লোক অংশগ্রহণ করেন।এর আগে বুধবার রাতে জয়পুরহাট শহরে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে পুড়ে এক পরিবারের ওই আট সদস্যের সবাই মারা যান।

১০ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মুরগি ব্যবসায়ী আবদুল মোমিন (৩৮), তার স্ত্রী পরী বানু (৩০), ২ বছরের শিশু আবদুর নূর, দুই যমজ মেয়ে হাসি ও খুশি (১২), বড় মেয়ে বৃষ্টি (১৪), বাবা দুলাল হোসেন (৭১) এবং মা মোমেনা বেগম (৬১)।ঘটনাস্থলে মোমিন, বৃষ্টি ও মোমেনা বেগমের মৃত্যু হলেও বাকিরা ঢাকায় আনার পথে মারা যান। প্রথমে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় জয়পুরহাট জেলা হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল পাঁচজনকে। অবস্থা বেগতিক দেখে বৃহস্পতিবার সকালে তাদের ঢাকায় পাঠানো হলে পথেই একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সবাই।

জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ৯টার দিকে পৌর এলাকার জয়পুরহাট শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজের অদূরে আরামনগর এলাকার একটি বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশীরা হঠাৎ দেখতে পায় বাড়িটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পরে তারা এগিয়ে এলেও শেষ রক্ষা হয়নি।প্রতিবেশীরা জানান, রাতের খাবার খেয়ে আবদুল মোমিনের বাসার সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ টিন শেডের ওই বাড়িতে আগুন দেখতে পেয়ে তারা এগিয়ে আসেন। খুব দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বের হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন।

আবদুল মোমিন তার অগ্নিদগ্ধ ছেলে-মেয়েদের কোনো মতে ঘরে বাইরে বের করে দিতে পারলেও নিজে বের হতে পারেননি। তিনি ঘরের ভেতরেই পুড়ে কয়লা হয়ে যান। এছাড়া ঘরের ভেতরেই মোমেনের সঙ্গে তার মা ও বড় মেয়ে মারা যান। তাদের শরীর এমনভাবে পুড়ে গেছে যে তাদের চেনার উপায় নেই। প্রতিবেশীরা বাকিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। নীলফামারীর ডোমারের এ পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে সবাইকে নিয়ে জয়পুরহাট শহরের আরামনগর এলাকায় বসবাস করছিলেন। তিনি ফেরি করে এলাকায় মুরগি বিক্রি করতেন।

প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাত বলা হলেও পরে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে আগুন লাগে বলে নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইন্সপেক্টর সিরাজুল ইসলাম।ঘটনার পরপরই জয়পুরহাট-২ আসনের এমপি আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জয়পুরহাট পৌর মেয়রসহ শত শত লোক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, বুধবার রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে গুরুতর দগ্ধ পাঁচজনকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় মারা যায়। তাদের বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নেয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সন্ধ্যায় জানাজা শেষে তাদের মরদেহ জয়পুরহাট কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় শত শত লোক অংশ নেন।

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর