,

সাবেক প্রেমিক স্বপনকে হত্যার বর্ণনা দিল রত্না

news-image

নারায়ণগঞ্জের স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষকে একা হত্যা করলেও বন্ধু স্বপন কুমার সাহা হত্যায় পিন্টু দেবনাথের সহযোগী ছিলেন আবাসিক যৌনকর্মী রত্না রাণী চক্রবর্তী। শহরের মাসদাইর বাজারসংলগ্ন রত্নার ভাড়া করা দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে স্বপনকে হত্যার পর সাত টুকরা করা হয় লাশ। ভরা হয় পাঁচটি ব্যাগে এবং পাঁচ দফায় তা ফেলে দেওয়া হয় শীতলক্ষ্যা নদীতে।
২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর রাতেই স্বপনকে খুন করা হয়। গতকাল নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে রত্নার দেওয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে এই চঞ্চল্যকর তথ্য।

একই সময় নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মহসিনের আদালতে প্রবীর হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃত বড়ভাই হিসেবে খ্যাত আব্দুল্লাহ আল মামুন মোল্লার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি শেষে দুজনকেই জেলাহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে রত্না বলেছেন, ‘২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর পিন্টুর কথামতো সন্ধ্যায় আমি স্বপনকে আমার ফ্ল্যাটে ডেকে আনি। পরে তাকে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে জুস খেতে দেই। তিনটি গ্লাসে জুস পরিবেশন করা হলেও আমার ও পিন্টুর গ্লাসে শুধু জুসই ছিল। আমরা একসঙ্গেই জুস পান করি। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্বপন অচেতন হয়ে পড়ে।’
‘এর পর তাকে আমি ও পিন্টু টেনেহিঁচড়ে বাথরুমে নিয়ে যাই। প্রথমে পুতা দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেয় পিন্টু। ফলে তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়। পরে দুজনে মিলে বঁটি দিয়ে স্বপনের দেহকে সাত টুকরা করি। পাঁচটি ব্যাগে ভরে ফেলি তার দেহের খ-িত অংশগুলো। বাড়ির পেছনে নিচতলায় দেয়ালের পাশে ব্যাগগুলো নিয়ে রেখে দেয় পিন্টু। আর আমি রক্তমাখা বাথরুমটি ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে ফেলি। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় সন্ধ্যা পৌনে ৬টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে। এ সময় আমার ছেলে অবশ্য কোচিংয়ে ছিল। রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে পিন্টু পাঁচ দফায় ব্যাগগুলো রিকশা করে নিয়ে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়।’
গত ৯ জুলাই প্রবীর ঘোষের লাশ উদ্ধারের পর পিন্টুর প্রতি স্বপনের পরিবারের সন্দেহ বাড়ে। কারণ স্বপন কৃমার সাহা, প্রবীর চন্দ্র ঘোষ ও ঘাতক পিন্টু দেবনাথ ছিলেন বন্ধু। ১৫ জুলাই বিষয়টি ডিবিকে জানালে রিমান্ডে থাকা পিন্টুর সহযোগী বাপন ভৌমিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পিন্টু দেবনাথের বান্ধবী রত্না রাণী চক্রবর্তীরও সন্ধান দেন বাপন। পরে মোবাইল নম্বর পর্যালোচনা করে জানা যায়, স্বপনের মোবাইল ব্যবহার করছেন রত্না। ১৫ জুলাই রাতে আটকের পর এই নারীর কাছ থেকে স্বপনের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এর পর তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এতে স্বপনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন রত্না।
রত্নার সঙ্গে স্বপনের ছিল পরকীয়ার সম্পর্ক। কয়েক বছর আগে ঘনিষ্ঠ বন্ধু পিন্টুর সঙ্গে এই নারীকে স্বপনই পরিচয় করিয়ে দেন। কিছুদিন না যেতেই রত্নার সঙ্গে পিন্টুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে যান স্বপন। এ নিয়ে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। রত্না চলে যান পিন্টু দেবনাথের কব্জায়।
নিখোঁজ স্বপনের ভাই অজিত কুমার সাহা গত ১৬ জুন সদর থানায় এ বিষয়ে মামলা করেন। এতে আসামি করা হয় পিন্টু দেবনাথ, বাপন ভৌমিক, রত্না রাণী চক্রবর্তী ও আব্দুল্লাহ আলম মামুন মোল্লাকে। মামলাটি দায়ের পর পরই তদন্তভার ডিবি পুলিশের কাছে ন্যস্ত করা হয়। মামলার এজাহারে অজিত জানান, স্বপন কুমার সাহা ছিলেন খুচরা কাপড় ব্যবসায়ী। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে তিনি নিখোঁজ।

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর