মোদি-শি বৈঠকে ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিকের বার্তা
অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কাটিয়ে ভারত ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিয়েছে বেইজিং। যোগাযোগ বাড়ানো, সহযোগিতা জোরদার এবং বিরোধগুলো যথাযথভাবে সামাল দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে চীন।
নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং।
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে বৈঠকটি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে ভারত ও চীন দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। প্রতিবেশী দুই দেশ হিসেবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং পরস্পরের উন্নয়নে সহযোগিতা করাই লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংও মোদি-শি বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার ভাষ্য, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ বাড়ানো, সহযোগিতা জোরদার এবং মতপার্থক্য সঠিকভাবে মোকাবিলার বিষয়ে আলোচনা করবেন।
এটি টানা তৃতীয় বছর হতে যাচ্ছে, যখন মোদি ও শি মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন। এর আগে কাজান ও তিয়ানজিনে তাদের বৈঠক হয়েছে। প্রায় সাত বছর পর ভারতে সফর করছেন শি জিনপিং। ২০২০ সালের পর এটাই তার প্রথম ভারত সফর।
২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাপের মধ্যে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।
কাজান ও তিয়ানজিনে দুই নেতার বৈঠকের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ আরও গতি পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এবারের বৈঠকেও সীমান্ত পরিস্থিতির পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
শি জিনপিংয়ের ভারত সফরে তার সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছাই ছি এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলিটব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই রয়েছেন।
১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। সম্মেলনের ফাঁকে মোদি-শি বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।











