,

‘একটা মদের বোতল দিলেই হবে’

news-image

‘বেশি কিছু লাগবে না, একটা ৮৫০ টাকা দামের মদের বোতল দিলেই হবে।’ এটা এক ‘দাদা’ মানে ছাত্রনেতার আবদার। কলকাতার কলেজগুলোতে দাদাদের দৌরাত্ম এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা এখন ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে প্রকাশ্যে মদের টাকা চাইছে।

ভারতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে কিছুদিন আগে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জুড়ে চলছে ভর্তি মৌসুম। পছন্দনীয় বিষয়ে ভর্তি হতে এই কলেজ থেকে ওই কলেজে ঘুরে মরছে শিক্ষার্থীরা। আর এই সুযোগে ভর্তি বাণিজ্য করে প্রচুর অর্থ কামিয়ে নিচ্ছেন তথাকথিত ছাত্রনেতারা। তাদের এই রমরমা ভর্তি বাণিজ্যের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই রিপোর্ট করছে আনন্দাবাজার পত্রিকা।

মঙ্গলবার পত্রিকাটি তুলে ধরেছে ডেবরা শহিদ ক্ষুদিরাম কলেজ কলেজের ভর্তিতে অনিয়মের নানা চিত্র।

আনন্দবাজারের ওই সাংবাদিক বলছেন, গেটের ভিতরে পা ফেলতেই টের পাওয়া গেল ‘ইউনিয়নের দাদা’দের দাপট।’ সেখানে অপেক্ষমান এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী তাকে জানান, মেধা তালিকায় নাম থাকলে ইউনিয়নের দাদাদের ভর্তির ফি-র সঙ্গে কিছু টাকা দিলেই হচ্ছে। কিন্তু এখন অফলাইনে ভর্তির বন্দোবস্ত করতে দাদারা বেশি টাকা নিচ্ছে।

আরেক ছাত্র বলেন, ‘আমি যেমন অফলাইনে ভর্তির জন্য সব ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি দাদাদের কাছে। শুনছি জেনারেলে ১৬৫০ টাকার বদলে সাড়ে তিন হাজার পর্যন্ত নিচ্ছে। অনার্সে বিষয় অনুযায়ী ‘রেট’ ঠিক হচ্ছে। কিন্তু আমার সঙ্গে দাদাদের আলাপ আছে। তাই তারা আমাকে বলেছে, একটা ৮৫০ টাকা দামের মদের বোতল দিলেই হবে।’

কলেজ কাউন্টারে নয়, ওই কলেজে ভর্তিচ্ছুদের টাকা জমা নেয়া হচ্ছে ইউনিয়নের রুমে। ছাত্র সংসদ কার্যালয়ের পাশেই একটি ক্লাসরুমে তিনটি ল্যাপটপ নিয়ে কার্যত অস্থায়ী ভর্তিকেন্দ্র খুলে বসেছেন টিএমসিপি-র সদস্যরা। সেখানেই ভিড়ের মাঝে পাওয়া গেল ছাত্র নেতা সমীর প্রামাণিককে। সাংবাদিক বুঝতে পেরে সমীর বললেন, ‘আসলে নতুন যারা আসছে তাদের সাহায্য করছি আমরা।’

টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে সমীরের দাবি, ‘না, আমরা কোনও টাকা নিচ্ছি না। যারা অনলাইনে টাকা জমা করতে পারেনি আমরা তাদের টাকা জমা করে দিচ্ছি।’

কিন্তু অফলাইনে ভর্তির জন্যও কেন টাকা ও নথি জমা নেওয়া হচ্ছে? সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে ঢোঁক গিলে ওই ছাত্রনেতা বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই অফলাইনের জন্য ডকুমেন্ট জমা নিচ্ছি। থার্ড লিস্ট বেরনোর পরে আসন ফাঁকা থাকলে অফলাইনে ভর্তি করানো হবে।’

এ সম্পর্কে টিএমসিপি-র কলেজ ইউনিটের সভাপতি শুভেন্দু প্রামাণিকের দাবি, ‘দাদা, সব অপপ্রচার চলছে। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রশ্নই নেই। কেউ খুশি হয়ে ৫০-১০০ টাকা মিষ্টি খেতে দিলে আলাদা কথা।’

এদিকে ভর্তিতে ছাত্রনেতাদের এ দুর্নীতির কথা জানেন না বলেই দাবি করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের টিচার ইন-চার্জ সুতপা পাল বলেন, ‘কলেজের মধ্যে পড়ুয়াদের অনলাইনে টাকা জমার ব্যবস্থা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আর অফলাইনে ভর্তির জন্য এ ভাবে কাগজপত্র জমা নিতে পারে না ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা। আমি দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

সূত্র: আনন্দবাজার

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর