রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাপাউবো’র প্রকল্পগুলোর জলাশয়ে মাছ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

news-image

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পগুলোর জলাশয়ে মাছ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা বিদ্যমান রয়েছে। এতে প্রকল্প এলাকার জনগণের কর্মসংস্থানের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাপাউবো (বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের) এর প্রকল্প এলাকার ছয় হাজার ১০৪ জন মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন।

ইতোমধ্যে বাপাউবো’র সেচ ক্যানেল, বোরোপিট ও অন্যান্য জলাশয়ে দুই হাজার ৫৭৩ মেট্রিক টন বিভিন্ন জাতের মাছ উৎপাদন হয়েছে। বাপাউবো’র ১২টি প্রকল্প এলাকাসহ অন্যান্য দুই লাখ ২৬ হাজার ৩১১ হেক্টরের মধ্যে এক হাজার ৯২ হেক্টর জলাশয়কে চাষের আওতায় এনে ওই পরিমাণ মাছ উৎপাদন করা হয়। বাপাউবো’র ১২টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে; তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প, চাঁদপুর সেচ প্রকল্প, কর্ণফুলি সেচ প্রকল্প, সুন্দলপুর সেচ প্রকল্প, টাঙ্গাইলের সিপিপি উপ প্রকল্প, টাঙ্গন ব্যারেজ প্রকল্প, বুড়িবাঁধ সেচ প্রকল্প, ভূল্লিবাঁধ সেচ প্রকল্প, ঢেপা নদী সেচ প্রকল্প, ব্লু গোল্ড প্রোগ্রাম, সিডিএসপি-৪ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্প এলাকা। বাপাউবো’র প্রকল্প এলাকার জলাশয়ে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, শিং, মাগুর, শোল, বোয়াল, সরপুটি, গলদা, বাগদা, পারশে, ভেটকি, দাতিনা ও বেলাসহ অন্যান্য কার্প জাতীয় মাছের চাষ করা হচ্ছে।

এব্যাপারে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান পানি ব্যবস্থাপনা কৃষিবিদ মাহ্ফুজ আহমদ জানান, আমাদের দেশে মাছ চাষের জন্য সাধারণত বিভিন্ন নার্সারি ও হ্যাচারি থেকে রেনু পোনা সংগ্রহ করা হয়। নার্সারি ও হ্যাচারি থেকে সংগৃহিত পোনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বিধায় দরিদ্র জনগণের পক্ষে এভাবে মাছ চাষ করা সম্ভব হয়না। এ ক্ষেত্রে বাপাউবো’র প্রকল্প এলাকার জলাশয়ে সহজেই মাছ চাষ করার সুযোগ রয়েছে। কারণ বর্ষার শুরুতে (মে-জুন মাসে) প্রথম পানি বৃদ্ধির সময় অনুকুল পরিবেশে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে প্রায় সব প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ নদ নদী হতে প্রজনন, খাদ্য গ্রহন ও বিচরণের জন্য ক্যানেলের মাধ্যমে প্লাবন ভূমিতে প্রবেশ করে। নদী থেকে সরাসরি সেচ ক্যানেলের মধ্যে প্রবেশ করা মাছ ও মাছের পোনা সঠিকভাবে আহরণ, মজুদ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বোরোপিট, সেচ ক্যানেল ও অন্যান্য জলাশয়ে সহজেই চাষ করা যেতে পারে।