সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একেই বলে নিয়তি; ছিলেন তিনি কোটিপতি এখন বেচেন চা!

news-image

অনলাইন ডেস্ক : একেই বলে নিয়তি! সৃষ্টিকর্তা কখনো কখনো কাউকে ধনী বানান। আবার কখনো রাস্তার ফকির বানান। তার কারিশমা বুঝা খুব মুশকিল। সৃষ্টিকর্তা ইচ্ছা করলেই যে মানুষকে কোটিপতি থেকে রাস্তার ফকির বানাতে পারেন তার জলন্ত প্রমাণ মহম্মদ সাউইরি।

বছর দু’য়েক আগেও মহম্মদ সাউইরি ছিলেন গাজার অন্যতম ধনকুবের। গাজার মিলিয়নেয়রদের মধ্যে একজন। আর পাঁচটা ধনবানদের মতোই বিলাসবহুল জীবন ছিল তাঁর। ডলার খরচ করতেন পানির মতো। বিলাসবহুল বাড়ি। বিদেশি গাড়ি। দামি স্মার্টফোন।

সব মিলিয়ে সাউইরির জীবনে বিলাসিতার অভাব ছিল না। হবু স্ত্রীরকে কিনে দিয়েছিলেন দামি ফোন। সেই মানুষটাই এখন গাজার একটি পার্কে চা বেচছেন। দিন খুব ভালো হলে রোজগার হয় ৫ ডলার। স্মার্টফোন তো দূর-অস্ত খরচ কমাতে হবু স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় চিঠিতে।হ্যাঁ, যুদ্ধোত্তর গাজায় ধনকুবের মহম্মদ সাউইরি এখন মামুলি চা বিক্রেতা।

হাইস্কুল ড্রপ-আউট সাউইরি ছিলেন গাজার টানেল মিলিয়নিয়ার মাত্র ১৭ বছর বয়সে কাজ শুরু করেছিলেন। তিন বছরেই হয়ে যান ধনকুবের। রাজনৈতিক অশান্তিই তাঁকে ক্ষমতার গজদন্ত মিনার থেকে এক ধাক্কায় ফেলে দিয়েছে রাজপথে। এক সময় গাজার সঙ্গে মিশরের বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত সুড়ঙ্গ। কয়েক হাজার মানুষের মতো সাউইরিও সুড়ঙ্গের ব্যবসায় ফুলে ফেঁপে ওঠেন অচিরেই। গাজা থেকে সুড়ঙ্গের সাহায্যে গরু, চিড়িখানার বিভিন্ন জন্তু, সিমেন্ট, সোডা, গাড়ি ইত্যাদি পাঠানো হত মিশরে। এই ব্যবসায় রাতারাতি ধনী হয়ে যান মহম্মদ সাউইরি।

কিন্তু সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কারণ যুদ্ধ। ইসরাইলের হানায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে গাজা। গত এক বছরে গাজায় বেকারত্ব বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। যুদ্ধের জেরেই গাজার সঙ্গে সুড়ঙ্গ বাণিজ্যে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মিশর। মিশরের বক্তব্য, ওই সুড়ঙ্গ দিয়েই হামাস যোদ্ধাদের পাঠানো হচ্ছে মিশরে।

এমনকি যোদ্ধাদের নানা অস্ত্রও ওই সুড়ঙ্গ দিয়েই পাচার করা হচ্ছে অবাধে। তাই সুড়ঙ্গ বাণিজ্য কার্যত বন্ধই করে দিয়েছে মিশর। আর এতেই বিপদে পড়েন সাউইরি। রাতারাতি রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একসময়ের ধনকুবের এখন ঠেলা গাড়িতে চা, কফি, আইস ক্রিম বিক্রি করেন।

মায়ের থেকে ৬৫ ডলার ধার করে গাজার একটি পার্কে একফালি জায়গা কিনেছেন সাউইরি। চা বিক্রিতে তাঁর সঙ্গ দিচ্ছে তাঁর ছোট্ট ভাইপোও। একে একে বিক্রি করেছেন সব কিছু। গাড়ি, বাড়ি, স্মার্টফোন, কম্পিউটার– সব কিছু। আজ তিনি নিঃস্ব।

শুধু সাউইরিই নন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এখন একসময়ের বহু ধনী ব্যক্তিরই পেশা চা, কফি, আইস ক্রিম, খবরের কাগজ বিক্রি। কেউ কেউ তো দায়ে পড়ে পরিবারের লোকেদের যৌন ব্যবসাতেও নামাতে বাধ্য হচ্ছেন। মাত্র ৫ ডলারের বিনিময়ে শিশুরা বেছে নিচ্ছে দেহ ব্যবসা।

পেটের জ্বালা, বড় জ্বালা। জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ সাউইরির আর্তনাদ, ‘ ইসরাইল তার ক্ষমতা দিয়ে আমাদের গ্যাস ঢেলে তো মেরে ফেলতে পারে। এভাবে আর বাচিয়ে রেখে লাভ কী শিশুরা খিদের পেটে নিজেদের পায়খানা খাচ্ছে। এভাবে মানুষ বাঁচতে পারে!’ সুত্র-নিউইয়র্ক টাইমস

এ জাতীয় আরও খবর

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

শেয়ার জালিয়াতির মামলায় আসামি সাহাবুদ্দিন

শাপলা চত্বরে হত্যা মামলায় ৪১ আসামি, তালিকায় হাসিনা-আজিজ-বেনজীর

‘স্পিরিট’-এ দীপিকার বদলে ক্যাটরিনা, বাড়ছে জল্পনা

প্রযুক্তি ও গবেষণায় স্বনির্ভর হতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

রাজধানীতে আতঙ্ক, সক্রিয় ভাড়াটে খুনিদের তালিকা হালনাগাদ

ঢাকার বায়ুমান আজ সহনীয় পর্যায়ে

থার্ড টার্মিনাল দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন বিমানমন্ত্রী

আন্দোলনে গতি ফেরাতে সক্রিয় হন তারেক রহমান, আসে তিন দাবির আলটিমেটাম

মার্কিন হামলা বন্ধ থাকলে পাল্টা হামলাও বন্ধ রাখবে ইরান

ঢাকায় তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই

সিয়াটলে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আটক সন্দেহভাজন