,

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিশাল ভর্তুকি দিতে হবে ভোক্তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে ২৫০ কোটি ডলার ভর্তুকি দিতে হবে উভয় সরকারকে। কম সুদে ঋণ দিয়ে ও কর অবকাশের মাধ্যমে এ প্রকল্কেপ্প প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের পরোক্ষ ভর্তুকি গুনবে দুই দেশ। একই সঙ্গে নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে বছরে ২৬ মিলিয়ন ডলারের মতো ভর্তুকি দিতে হবে। এই উচ্চ ভর্তুকি বিনিয়োগকারী ও ভোক্তা উভয়কে আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। বিশাল ভর্তুকির পরও এ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় দেশের গড় বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচের চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি হবে।

 

66 (1)

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে রামপাল প্রকল্পের অর্থনৈতিক দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

শনিবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি।

আইইইএফএর অস্ট্রেলেশিয়ার এনার্জি ফিন্যান্স স্ট্যাডিজের পরিচালক টিম বাকলি ও ইকুইটোরিয়ালসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার জয় সারদা মিলে এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের কাছ থেকে অতিমাত্রায় ভর্তুকি সুবিধাপ্রাপ্ত। প্রথমত, রামপাল প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ১৫ বছরের কর অবকাশর সুবিধা দিয়েছে, অর্থের হিসাবে যার পরিমাণ দাঁড়াবে ৯৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। প্রকল্পে ভারতের এক্সিম ব্যাংক প্রচলিত মাত্রার চেয়ে কম সুদে ঋণ দিচ্ছে, এতে পরোক্ষভাবে ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ভর্তুকি হিসেবে পাচ্ছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। তৃতীয়ত, বিদ্যুৎকেন্দ্র্রটিতে কয়লা সরবরাহের জন্য ড্রেজিংসহ অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণে বছরে দুই কোটি ৬০ লাখ ডলার ভর্তুকি দিতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। ২৫ বছরে (বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইফটাইম) এ খাতে ভর্তুকি পরিমাণ হবে ৫০ কোটি ডলারের ওপরে। প্রকল্প ব্যয়ে এই পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভর্তুকির বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এত বিশাল ভর্তুকি দিয়েও রামপাল প্রকল্পে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ দেশের বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচের চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি হবে, যা দেশের বিদ্যুতের সার্বিক দাম ৩২ শতাংশ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। প্রতিবেদন অনুসারে রামপালে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ পড়বে নয় টাকা ৫০ পয়সা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প প্রস্তাবনায় রামপাল কেন্দ্রের প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর ধরা হয়েছে ৮০ শতাংশ, অর্থাৎ কেন্দ্রটি ৮০ শতাংশ হারে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতে একই ধরনের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে। এ ছাড়া রামপাল প্রকল্পটি বাংলাদেশের এমন এক অঞ্চলে করা হচ্ছে, যেখানে তীব্র বায়ুপ্রবাহ ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি রয়েছে। এতে বিনিয়োগ ঝুঁকি আরও বাড়বে।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক জয় সারদা বলেন, আমরা নানা দিক থেকে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পটি পর্যালোচনা করেছি। অর্থায়ন, বিনিয়োগ, উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সরবরাহসহ চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়গুলো আমাদের প্রধান বিবেচ্য ছিল। সব বিবেচনাতেই প্রকল্পটি ঝুঁকিপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) মহাসচিব ডা. আবদুল মতিন, তেল-গ্যাস কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান ও ভূতত্ত্ববিদ বদরুল ইমাম বক্তব্য দেন।

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেন, এ প্রকল্প ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বৈরিতা বাড়াবে। দেশের বাস্তবতায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা থাকতেই পারে, তবে তা অবশ্যই সুন্দরবনকে ধ্বংস করে নয়।

রামপাল প্রকল্পে ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ করবে। ভারত সরকারের এক্সিম ব্যাংক বাকি ৭০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে সরবরাহ করবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে ১৮৫ কোটি ডলার।

এ জাতীয় আরও খবর

ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও নিজস্ব মোবাইল নেই ৩৪ শতাংশের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে: বিরোধী নেতারা

পাপ্পু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাইটিভির সাথীকে

ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজারের বেশি

কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট ১১৯৬

কাঁধের হাড় ভাঙা ও অস্টিওপোরোসিস: লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা