মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিশাল ভর্তুকি দিতে হবে ভোক্তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে ২৫০ কোটি ডলার ভর্তুকি দিতে হবে উভয় সরকারকে। কম সুদে ঋণ দিয়ে ও কর অবকাশের মাধ্যমে এ প্রকল্কেপ্প প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের পরোক্ষ ভর্তুকি গুনবে দুই দেশ। একই সঙ্গে নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে বছরে ২৬ মিলিয়ন ডলারের মতো ভর্তুকি দিতে হবে। এই উচ্চ ভর্তুকি বিনিয়োগকারী ও ভোক্তা উভয়কে আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। বিশাল ভর্তুকির পরও এ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় দেশের গড় বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচের চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি হবে।

 

66 (1)

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে রামপাল প্রকল্পের অর্থনৈতিক দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

শনিবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি।

আইইইএফএর অস্ট্রেলেশিয়ার এনার্জি ফিন্যান্স স্ট্যাডিজের পরিচালক টিম বাকলি ও ইকুইটোরিয়ালসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার জয় সারদা মিলে এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের কাছ থেকে অতিমাত্রায় ভর্তুকি সুবিধাপ্রাপ্ত। প্রথমত, রামপাল প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ১৫ বছরের কর অবকাশর সুবিধা দিয়েছে, অর্থের হিসাবে যার পরিমাণ দাঁড়াবে ৯৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। প্রকল্পে ভারতের এক্সিম ব্যাংক প্রচলিত মাত্রার চেয়ে কম সুদে ঋণ দিচ্ছে, এতে পরোক্ষভাবে ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ভর্তুকি হিসেবে পাচ্ছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। তৃতীয়ত, বিদ্যুৎকেন্দ্র্রটিতে কয়লা সরবরাহের জন্য ড্রেজিংসহ অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণে বছরে দুই কোটি ৬০ লাখ ডলার ভর্তুকি দিতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। ২৫ বছরে (বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইফটাইম) এ খাতে ভর্তুকি পরিমাণ হবে ৫০ কোটি ডলারের ওপরে। প্রকল্প ব্যয়ে এই পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভর্তুকির বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এত বিশাল ভর্তুকি দিয়েও রামপাল প্রকল্পে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ দেশের বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচের চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি হবে, যা দেশের বিদ্যুতের সার্বিক দাম ৩২ শতাংশ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। প্রতিবেদন অনুসারে রামপালে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ পড়বে নয় টাকা ৫০ পয়সা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প প্রস্তাবনায় রামপাল কেন্দ্রের প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর ধরা হয়েছে ৮০ শতাংশ, অর্থাৎ কেন্দ্রটি ৮০ শতাংশ হারে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতে একই ধরনের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে। এ ছাড়া রামপাল প্রকল্পটি বাংলাদেশের এমন এক অঞ্চলে করা হচ্ছে, যেখানে তীব্র বায়ুপ্রবাহ ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি রয়েছে। এতে বিনিয়োগ ঝুঁকি আরও বাড়বে।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক জয় সারদা বলেন, আমরা নানা দিক থেকে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পটি পর্যালোচনা করেছি। অর্থায়ন, বিনিয়োগ, উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সরবরাহসহ চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়গুলো আমাদের প্রধান বিবেচ্য ছিল। সব বিবেচনাতেই প্রকল্পটি ঝুঁকিপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) মহাসচিব ডা. আবদুল মতিন, তেল-গ্যাস কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান ও ভূতত্ত্ববিদ বদরুল ইমাম বক্তব্য দেন।

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেন, এ প্রকল্প ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বৈরিতা বাড়াবে। দেশের বাস্তবতায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা থাকতেই পারে, তবে তা অবশ্যই সুন্দরবনকে ধ্বংস করে নয়।

রামপাল প্রকল্পে ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ করবে। ভারত সরকারের এক্সিম ব্যাংক বাকি ৭০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে সরবরাহ করবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে ১৮৫ কোটি ডলার।

এ জাতীয় আরও খবর

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত

এলপিজি ও ডিজেল ভর্তুকিতে নতুন কার্ড চালুর উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিইসির বৈঠক ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে

স্বর্ণের দাম আবার কমল ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশীয় চিকিৎসা যন্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আহত জুলাই যোদ্ধার নবজাতকের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের