বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালেবানের সঙ্গে ব্যবসা করছে আফগান সরকার

Talibanআন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানে বর্তমান পশ্চিমা সমর্থিত সরকারকে হটিয়ে আবারো নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে লড়াই করে যাচ্ছে তালেবান। আর এ কারণেই সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সাপে নেউলে। তবে এই সাপে নেউলে সম্পর্কের মধ্যেই পরোক্ষভাবে হলেও জেনেশুনেই তালেবানকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ দিয়ে যাচ্ছে আফগান সরকার। সম্প্রতি ‍ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য।

মূলত আফগানিস্তানের লাভজনক মার্বেল পাথরের ব্যবসার মাধ্যমে এই অর্থ উপার্জন করে যাচ্ছে তালেবান। দেশটির সবচেয়ে বড় মার্বেল খনির অবস্থান হেলমান্দ প্রদেশে। আর এই প্রদেশটি দীর্ঘদিন ধরে তালেবানের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে খনিগুলো থেকে মার্বেল উত্তলনে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। নিজেদের মার্বেল শিল্প টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির কাছ থেকে মার্বেল ক্রয় করতে হয় সরকারেকে। ওই বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে মার্বেল পেতে অর্থ দিতে হয় তালেবানকে। এভাবেই পরোক্ষভাবে আফগান সরকারের অর্থ চলে যাচ্ছে তালেবানের পকেটে।

প্রতি বছর মার্বেল ব্যবসার মাধ্যমে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করে যাচ্ছে তালেবান। ২০১৪ সালের এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ জানায়, প্রতি বছর হেলমান্দ প্রদেশের মার্বেল ব্যবসা থেকে মোট আয়ের তিনভাগের দুইভাগই তালেবানের অধিকারে চলে যায়। মার্বেল ব্যবসা থেকে বছরে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার আয় হয় হেলমান্দ প্রদেশের। এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন ডলারই যায় তালেবানের হাতে।

হেলমান্দে মার্বেল পাথরের একটি কারখানা

তবে হেলমান্দে আফগান সরকারের দূত আবদুল জব্বার কাহরামানের মতে এর পরিমাণ আরো বেশি হবে। তিনি বলেন, মার্বেল ব্যবসা থেকে প্রতিদিন তালেবানের আয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, বছরে তাদের আয় ১৮ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে এ বিষয়ে হেলমান্দ প্রদেশে আফগান সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কোনো কথা না বলার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা আছে। তিনি বলেন, ‘হ্যা এতে আমরা উদ্বিগ্ন। তবে আমাদের আর কোনে পথ নেই।’

৫৫ বছর ধরে হেলমান্দের লস্কর গাহ এলাকায় মার্বেল উত্তোলনের কাজ করে আসছে ইতালি তৈরি একটি কোম্পানি। কোম্পানির ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ লাল কারগর বলেন, তালেবানের অধীনে থাকায় কোম্পানির ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। তবে বেশি কিছু বলতে রাজি ছিলেন না তিনি। মার্বেলের চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকলেও কোম্পানির আয় মাসে আট থেকে নয় হাজার পাউন্ডের মধ্যে থেমে আছে।

লস্কর গাহের কোম্পানিটি ইতালির তৈরি হলেও এর মালিকানা ৪৯ শতাংশ আফগানিস্তান সরকারের এবং বাকি ৫১ শতাংশ একটি মার্কিন কোম্পানির, যার মালিক যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক একজন  ঠিকাদার। কারগর বলেন, সরকারের কাছে মার্বেল বিক্রি করে না তালেবান। এ কারণে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি খনি থেকে মার্বেল উত্তোলন করে তা সরকারের কাছে বিক্রি করে থাকে। মার্বেল উত্তোলনের জন্য চাঁদা দিতে হয় তালেবানকে।

উল্লেখ্য, সাবেক সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এক সময় আফগানিস্তানে উত্থান ঘটেছিল তালেবানের। তাদের সেই উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় এক দশকব্যাপী সোভিয়েত-বিরোধী যুদ্ধের পর ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায়ও যায় তারা। তবে সে ক্ষমতা স্থায়ী হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রই তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। ২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর হামলায় ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়ে তালেবান।

এ জাতীয় আরও খবর

গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি থাকলে যা করবেন

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন, যা এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন পাকিস্তানি ভ্লগার

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত