টাকার বিপরীতে রুপি দুর্বল, শক্তিশালী হচ্ছে টাকা
অনলাইন ডেস্ক : ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বাংলাদেশি টাকার মূল্য। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় বর্তমানে রুপির বিপরীতে টাকা প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। শুধু গত এক বছরেই এই বৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিনিময় হার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে প্রায় শূন্য দশমিক ৭৮ ভারতীয় রুপি পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই হার ছিল প্রায় শূন্য দশমিক ৭২ রুপি। আর ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা দিয়ে পাওয়া যেত প্রায় শূন্য দশমিক ৭০ রুপি।
অন্যদিকে, ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ টাকা ২৮ পয়সা। এক বছর আগে যেখানে একই পরিমাণ রুপি কিনতে প্রায় ১ টাকা ৩৮ পয়সা লাগত। অর্থাৎ, ভারতীয় রুপি কিনতে বাংলাদেশিদের এখন তুলনামূলক কম টাকা খরচ হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১ দশমিক ২৭৮৯ থেকে ১ দশমিক ২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ, এক বাংলাদেশি টাকার বিনিময়ে প্রায় শূন্য দশমিক ৭৮১ থেকে শূন্য দশমিক ৭৮২ ভারতীয় রুপি পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।
তিনি বলেন, বিনিময় হার অনুকূলে থাকলে ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্পের উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিতে স্থানীয় মুদ্রায় তুলনামূলক কম অর্থ প্রয়োজন হবে। একইভাবে ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরাও আবাসন, খাবার, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খরচে সুবিধা পেতে পারেন।
তবে রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বাড়লেও এর পুরো সুফল সরাসরি বাজারদরে প্রতিফলিত হবে না। আমদানি পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক-কর এবং ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তের মতো বিষয়গুলোও পণ্যের চূড়ান্ত দামে প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি ও বিনিময় হারের পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।











