ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ, বাড়ল ব্যয়সীমাও
অনলাইন ডেস্ক : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ পাঁচ গুণ বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীকে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য পদে ৫ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত সংশোধনী প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বুধবার তা প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন নিয়মে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জামানত ২৫ হাজার এবং সদস্য প্রার্থীদের ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে জমা দিতে হবে। একই প্রার্থীর একাধিক মনোনয়নপত্র থাকলেও একাধিক জামানত দিতে হবে না। আগে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ছিল ৫ হাজার এবং সদস্য প্রার্থীর ১ হাজার টাকা।
জামানত ফেরতের শর্তেও পরিবর্তন এসেছে। মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেলে প্রার্থী জামানত ফেরত পাবেন। এর কম ভোট পেলে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে। আগে এই সীমা ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
চেয়ারম্যান প্রার্থীর হলফনামা বাধ্যতামূলক
নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের হলফনামা দেওয়ার বিধান যুক্ত হয়েছে। তবে সদস্য প্রার্থীদের জন্য এমন বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
আচরণবিধি ভাঙলে প্রার্থিতা বাতিল
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশন তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে লিখিত আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে ইসির।
কোনো কেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি বা কারসাজির কারণে ফল গুরুতরভাবে প্রভাবিত হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফল স্থগিত করতে পারবে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী অনুসন্ধানের পর সেখানে পুনরায় ভোট নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া যাবে।
বাড়ল নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা
সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের সীমা ছিল যথাক্রমে ৫ লাখ ও ১ লাখ টাকা।
চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য তফসিলি ব্যাংকে আলাদা হিসাব খোলার বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যয়ের অর্থ ওই হিসাবের মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে। কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি খরচ হলে চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
সমান ভোট হলে হবে পুনঃভোট
দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমান সর্বোচ্চ ভোট পেলে এবার লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে না। সমান ভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনরায় ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করবে নির্বাচন কমিশন।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভোটারদের সহায়তার সুযোগ
দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধিতা কিংবা অন্য কোনো কারণে ভোট দিতে সহায়তা প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ভোটার কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী একজন সহায়তাকারী সঙ্গে নিতে পারবেন। তবে ওই ব্যক্তি প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না।
ভোটার নিজে ব্যালটে চিহ্ন দিতে না পারলে তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তাকারী তা করতে পারবেন। একই সঙ্গে ভোটারের পছন্দের বিষয় গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী কাজে বাধা দিলে শাস্তি
নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী বা পর্যবেক্ষককে হুমকি, ভয়ভীতি, আঘাত বা বলপ্রয়োগ করে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, মনোনয়নপত্র জমা থেকে বিরত রাখা কিংবা মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করাও অপরাধের আওতায় পড়বে।
এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
ইউপি নির্বাচনের প্রতীক
চেয়ারম্যান পদে ২০টি প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।
সাধারণ সদস্যদের জন্য ১২টি প্রতীক রাখা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।
সংরক্ষিত নারী সদস্যদের জন্য ১০টি প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলমারি, কলস, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।











