দুর্নীতিতে দুই সাবেক ফুটবল প্রধান আজীবন নিষিদ্ধ
অনলাইন ডেস্ক : আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুই সাবেক ফুটবল ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তাদের একজন মন্টসেরাট ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ভিনসেন্ট ক্যাসেল, অন্যজন মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক প্রধান বাসাম আদিল জলিল।
ফিফার শুক্রবারের বিবৃতি অনুযায়ী, ক্যাসেলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত এবং ফিফা ও মন্টসেরাট ফুটবল ফেডারেশনের অর্থ অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাকে আজীবন ফুটবল সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে।
মালদ্বীপের সাবেক সভাপতি জলিলের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ফিফা। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ফুটবলের জন্য বরাদ্দ তহবিল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগে তাকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে।
মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জলিলকে ফিফার প্রায় ১২ লাখ ডলার আত্মসাতের মামলায় ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থটি স্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সেই অর্থের একটি অংশ দিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট কেনা হয়।
ক্যাসেলের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০১১ সালে ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে ফিফার তৎকালীন নৈতিকতা কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল। ওই সময় ফিফা সভাপতি নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের নগদ অর্থ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার পরও ক্যাসেল দীর্ঘদিন মন্টসেরাটের ফুটবল কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ট্যান্ডিকা হিউজ পদ ছাড়ার পর সেখানে জরুরি ব্যবস্থাপনা দল নিয়োগ করে ফিফা। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, তখন সেখানে গুরুতর সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।
হিউজের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে ফিফা। অনিয়মপূর্ণ আর্থিক লেনদেনে সুবিধা নেওয়া ও তা সহজতর করা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থের অপচয়ের অভিযোগে তাকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তার ওপর ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও আরোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আগিলকে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফা। তাকে ১ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়েছে। ফিফার অর্থের অপব্যবহার ও তা গোপন করা, জাল নথি ব্যবহার এবং তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্যাসেল ও জলিল দুজনই ২০১৬ সালে নিজ নিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরের বছর বাহরাইনে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসেও তারা সভাপতি হিসেবে অংশ নেন।
ফুটবলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালদ্বীপের ফুটবলে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার কথাও তিনি স্বীকার করেছিলেন।











