বিএনপি ও সরকারে একাধিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা
অনলাইন ডেস্ক : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির দলীয় কাঠামো, সরকার এবং সংসদীয় রাজনীতিতে একাধিক পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে দলের মহাসচিব পদে কে আসছেন, তা নিয়ে বিএনপির ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
দলীয় নেতাদের অনেকে মনে করছেন, ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে আপাতত কাউকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রিজভীর সম্ভাবনাই বেশি বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতেও একটি পদ শূন্য হবে। এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ায় একটি পদ খালি হয়েছিল। ফলে নতুন করে আরও একটি পদ শূন্য হলে তা পূরণে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে আবদুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, বরকত উল্লাহ বুলু, আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও রুহুল কবির রিজভীর নাম রয়েছে।
তবে দলের জাতীয় কাউন্সিল সামনে থাকায় এখনই স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নভেম্বরের শেষ দিকে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
মহাসচিব পদে রিজভীর পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্বে থাকা কয়েকজনের তুলনায় হাবিব উন নবী খান সোহেলের সাংগঠনিক ব্যস্ততা কম হওয়ায় তার নামও বিবেচনায় রয়েছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জানিয়েছেন, মহাসচিব পদে তুলনামূলক তরুণ ও কর্মীবান্ধব কাউকে দেখা যেতে পারে। দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবেন—এমন নেতাকেই শেষ পর্যন্ত বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
রুহুল কবির রিজভী অবশ্য মহাসচিব হওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেছেন, দলের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য নিয়েই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় নেতৃত্ব যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেভাবেই কাজ করবেন।
ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসনও শূন্য হবে। ফলে সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে। ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফখরুলের পরিবারের কাউকে প্রার্থী করা হবে, নাকি অন্য কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—তা এখনো পরিষ্কার নয়।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ রুহুল কবির রিজভীকে মহাসচিব পদে দেখতে আগ্রহী। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, দলের বিভিন্ন সংকটে সক্রিয় থাকা এবং সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে তার প্রতি তৃণমূলে আস্থা রয়েছে বলে দলীয় নেতারা দাবি করছেন।
তবে বিএনপির নেতারা এটিও বলছেন, ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলেই রিজভী মহাসচিব হবেন—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান চাইলে অন্য কাউকেও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দিতে পারেন।
সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নির্ধারণ, স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পরিবর্তন এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের প্রার্থী বাছাই—এই চারটি বিষয় সামনে আসতে পারে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পরই এসব বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন নেতারা।











