অনলাইন ডেস্ক : গ্লুকোমা শুধু বয়স্কদের নয়, নবজাতক ও শিশুদেরও হতে পারে। এটি এমন একটি চোখের রোগ, যেখানে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বেড়ে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মগত গ্লুকোমায় আক্রান্ত শিশুর চোখ স্বাভাবিকের তুলনায় বড় দেখাতে পারে। চোখ দিয়ে অতিরিক্ত পানি পড়া, আলো সহ্য করতে না পারা, কর্নিয়া ঘোলা হয়ে যাওয়া এবং চোখে সবসময় ভেজাভাব থাকা এ রোগের সাধারণ লক্ষণ।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহারের কারণেও শিশুদের গ্লুকোমা হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। অনেক অভিভাবক নিজ উদ্যোগে ওষুধ ব্যবহার করায় রোগ শনাক্তে দেরি হয় এবং তখন শিশুর চোখে গুরুতর ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
গ্লুকোমা নির্ণয়ের জন্য চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ, অপটিক নার্ভের অবস্থা, কর্নিয়ার পুরুত্ব, ড্রেনেজ অ্যাঙ্গেল এবং দৃষ্টিক্ষেত্রসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। শিশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এসব পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে ওষুধ, লেজার থেরাপি কিংবা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। কোন পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা রোগীর অবস্থা মূল্যায়নের পর চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শিশুর চোখ স্বাভাবিকের তুলনায় বড় মনে হলে, চোখ দিয়ে অতিরিক্ত পানি পড়লে বা আলো সহ্য করতে সমস্যা হলে দেরি না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করলে গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা অনেকটাই সম্ভব।