যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দাম হ্রাস
অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা দুই সপ্তাহের পাল্টাপাল্টি হামলার পর উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে।
সোমবার লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৯৬ ডলার বা ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯২ দশমিক ৮২ ডলারে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে এক পর্যায়ে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচেও নেমে যায়।
টানা তিন সপ্তাহ মূল্যবৃদ্ধির পর বর্তমানে ব্রেন্টসহ প্রধান তেল সূচকগুলো প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত জ্বালানি পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের এশিয়ামুখী তেল রপ্তানিও বিঘ্নিত হয়। এ পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একসময় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছে যায়।
এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইএনজির বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশ নতুন করে সামরিক সংঘাতে না জড়ানোয় বাজারে উত্তেজনা কমার ইতিবাচক বার্তা মিলেছে। তাদের ভাষ্য, তেলের দামে সোমবারের বড় পতনই প্রমাণ করে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক পরিস্থিতির অপেক্ষায় ছিলেন।
তবে সামরিক অভিযান বন্ধ থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ ওই প্রণালি অতিক্রম করেছে।











