মধ্যরাতে ছাপাখানা পরিদর্শনে শিক্ষামন্ত্রী, দেখলেন পাঠ্যবইয়ের মান
অনলাইন ডেস্ক : ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের মুদ্রণ ও গুণগত মান যাচাই করতে গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন ছাপাখানা পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর তিনি রাজধানীর অন্তত ছয়টি ছাপাখানায় আকস্মিক পরিদর্শন চালান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
পরিদর্শনের সময় শিক্ষামন্ত্রী বইয়ের কাগজের পুরুত্ব, বাঁধাইয়ের মান এবং ছাপার উজ্জ্বলতা ও সামগ্রিক গুণগত মান পরীক্ষা করেন। বিভিন্ন বইয়ের বান্ডিল থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে নমুনা কপি সংগ্রহ করে তিনি নিজেই সেগুলো যাচাই করেন।
শিক্ষার্থীদের হাতে যেন ত্রুটিমুক্ত ও মানসম্মত বই পৌঁছায়, সে বিষয়ে ছাপাখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। বই ছাপার কাজে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি না করার কথাও জানান তিনি।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (টেক্সট) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে চলছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপজেলা পর্যায়ে বই পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারির বই উৎসবে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়াই লক্ষ্য।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি বই ছাপানো হবে। এ কার্যক্রমে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা।
এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি এবং ইবতেদায়ি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি বই ছাপানো হচ্ছে।
মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য প্রায় ১৮ কোটি বই প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে নবম শ্রেণির জন্য ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই রয়েছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ৯ হাজার ৪ কপি ব্রেইল বই।
এবারের পাঠ্যসূচিতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে কয়েকটি নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’ নামে নতুন বই যুক্ত হয়েছে।











