অনলাইন ডেস্ক : ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এ হামলার ঘটনা সামনে এলো।
শনিবার হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানান, সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবু এলাকার স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে জিজানের আরামকো শোধনাগার এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। কয়েকটি জ্বালানি বাণিজ্য সূত্র জানিয়েছে, ওই এলাকার তেল ও জ্বালানি সংরক্ষণাগারে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরামকোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইয়ানবুর তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবে মোতায়েন মার্কিন প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে বলে জানিয়েছে গ্রিক নিরাপত্তা সূত্র।
লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ইয়ানবু সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি বন্দর। হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ হিসেবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বন্দরটির কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে। অন্যদিকে, জিজান শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে।
সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন মারিব ও আল-জাওফ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হোদেইদা শহরে হুথিদের সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা জানায়। তবে বন্দর এলাকার স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি বলে দাবি করেছে তারা।
ইয়েমেনের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের দুই পক্ষই আবার নতুন করে সেনা ও অস্ত্র প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখলের পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা কমে এলেও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাবে হুথিরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় গোষ্ঠীটি। হুথি নেতা আবদুল মালিক আল-হুথি সৌদির তেল স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেন। সম্প্রতি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবিও করেছে সংগঠনটি।