বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাতির অবাধ চলাচলে চুক্তি হচ্ছে ভারতের সঙ্গে

news-image

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্যপ্রাণী হাতির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চুক্তি হতে যাচ্ছে। এই চুক্তিতে দু’দেশের মধ্যে হাতি চলাচলের করিডর উম্মুক্ত রাখার পাশাপাশি চোরাকারবারিদের হাত থেকে হাতিকে রক্ষার জন্য পাহারা জোরদার করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কলকাতায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের বন কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন। বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের হাতিরা যাতে পরস্পর মিলিত হতে পারে তার ওপর জোর দেয়া হয়।
 
বৈঠক সূত্র জানায়, দু’দেশের বন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কিছু সুপারিশ বিনিময় করবেন। ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত পেরিয়ে বন্যপ্রাণীর চোরাচালানী দিন দিন বাড়ছে। তাই বৈঠকে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ কমানোর ক্ষেত্রেও দুদেশের মধ্যে সমন্বয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়। এর ফলে চোরাকারবারিরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে গেলেও তাদের গ্রেফতার করা যাবে। বৈঠকে আরো বলা হয়, মানুষের তৈরি সীমান্ত পার হলেই হাতিদের গুলিতে মরতে হয়। আবার না-পেরোলে সঙ্গী নির্বাচনেও তাদের সমস্যা হয়। ভারতীয় গণমাধ্যম বৈঠকের রিপোর্ট করতে গিয়ে বলেছে, বৈধ নথিপত্র ছাড়া সীমান্ত পার হলে মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু হাতিদের বেলায় তা নয়। মানুষের তৈরি সীমান্ত-বিধি তাদের রেহাই দেয় না। গ্রেফতার বা তার পরবর্তী বিচারের সুযোগটুকুও পায় না তারা। সীমান্ত পার হলেই বুলেটই তাদের প্রাপ্য। কয়েক মাস আগে যেমনটি ঘটেছিল ঝাড়খণ্ডের এক হাতির ভাগ্যে। পদ্মা পেরিয়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরার চরে ঢুকতেই তাকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ (বিজিবি)।
 
বৈঠকে বলা হয়, নানা কারণে হাতিরা সীমান্ত পার হয়। পাহাড় জঙ্গল পেরিয়ে সঙ্গী নির্বাচনের খোঁজে ত্রিপুরার হাতিদের বাংলাদেশে যাতায়াত দীর্ঘকালের। আবার বাংলাদেশের হাতিরাও ভারতে যাচ্ছে। ত্রিপুরার বনকর্মকর্তাদের আশঙ্কা, বিদেশ যেতে না-পেরে নিজের পরিবারেই প্রজনন ঘটাচ্ছে হাতিরা। একই গোত্রের সেই মিলনে জিনগত অসুখে আক্রান্ত হতে পারে হাতিরা। কলকাতায় দু’দিনের বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের বনকর্তারা হাতিদের পারাপারের ‘করিডর’ খোলা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। শিকারিদের দাপট কমাতে বন্যপ্রাণী বিভাগের অপরাধ দমন শাখা শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
 
ত্রিপুরার হাতিদের কাছে বাংলাদেশে যাতায়াত করা কতটা জরুরি তা ব্যাখ্যা করলেন ত্রিপুরার বনকর্তা প্রসেনজিত্ বিশ্বাস। তিনি জানান, বাংলাদেশে গিয়ে ত্রিপুরার হাতিরা সে দেশের হাতিদের সঙ্গে মিলিত হয়। তার ফলে তাদের জিনগত বৈচিত্র্য বজায় থাকে। বাংলাদেশে যেতে না পারলে তারা নিজেদের পরিবারেই প্রজনন ঘটাতে থাকবে। তার ফলে দুরারোগ্য জিনগত অসুখে আক্রান্ত হতে পারে ওরা। হাতিদের প্রজননে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই ব্যাপারে বনকর্তারা একমত হয়েছেন। হাতিদের করিডরে নিয়মিত নজরদারির কথাও বলা হয়েছে বৈঠকে। দাঁতের লোভে শিকারিরা যাতে হাতি না মারে সে দিকে খেয়াল রাখার কথা বলা হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা