বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লঞ্চ শিল্প ধ্বংসের মুখে

news-image

বরিশাল ব্যুরো : করোনার আগ্রাসনে ধ্বংসের পথে বরিশালের নৌ-শিল্প। মাসের পর মাস বন্ধ লঞ্চ চলাচল; যে কারণে নেই উপার্জন। উল্টো লাখ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণের কিস্তি, শ্রমিক বেতনে করুণ দশায় লঞ্চ মালিকরা। সব মিলিয়ে আত্মহননের অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান লঞ্চ মালিকরা।

তারা জানান, লঞ্চ চলাচল শুরু হলেও এমন পরিস্থিতিতে সরকারি প্রণোদনাসহ কার্যকরী পদক্ষেপ ছাড়া কোনোভাবেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই তাদের দাবি স্বল্প সুদে খুব দ্রুত সময়ে তাদের ঋণ প্রদান করা হোক।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানালেন, লঞ্চ মালিকদের প্রণোদনার বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বসে এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা করা হবে।

জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল নৌরুট দেশের সবচেয়ে বড় নৌরুট। স্বাভাবিকভাবেই এ রুটকে কেন্দ্র করে যাত্রীসেবার জন্য যুক্ত হয়েছে বিলাসবহুল সব লঞ্চ। একক দৃষ্টিতে শুধু লঞ্চ ব্যবসাই নয়, দিনে দিনে এটি একটি শিল্পতে রূপ নিয়েছে; যার ফলশ্রুতিতে বরিশালে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। এসব অত্যাধুনিক নৌযান এসব ডকইয়ার্ডেই তৈরি করা হয়েছে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে হাজার হাজার শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করছেন।

বর্তমানে এই রুটে ৮ কোম্পানির ২৩টি লঞ্চ চলাচল করছে। প্রায় সবগুলোই ৩ থেকে ৪ তলাবিশিষ্ট। অত্যাধুনিক একেকটি লঞ্চ তৈরি করতে ব্যয় হয় ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা। যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি থাকে ব্যাংক ঋণ। মাসিক ও ত্রৈমাসিক হিসাবে কিস্তি পরিশোধের চুক্তিতে উচ্চসুদে সরকারি বেসরকারি ব্যাংক থেকে এই ঋণ গ্রহণ করে থাকেন মালিকরা।

ঋণের ধরন হিসেবে প্রায় প্রত্যেক লঞ্চ মালিককে মাসে ৪০ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে উপার্জনের বাহন লঞ্চ চলাচল। ব্যাংক তথা ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কিস্তি স্থগিতও করেনি বা সুদের হারও কমায়নি। এমন অবস্থায় এককথায় দিশাহারা সব লঞ্চ মালিকরা।

তথ্যমতে, করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৭ মাস সরকারি নির্দেশে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই বন্ধ রয়েছে উপার্জন। কিন্তু নিয়ম মেনে যথারীতি পরিশোধ করতে হয়েছে ভ্যাট ট্যাক্স। বাদ যায়নি যাত্রী কল্যাণ ফান্ডে টাকা প্রদান। শ্রমিকদের বেতন বোনাসও পরিশোধ করেছেন মানবিক বিবেচনায়।

কিন্তু লঞ্চ মালিকদের কথা বিবেচনা করেনি সরকার। বাংলাদেশ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সহ-সভাপতি ও সুন্দরবন নেভিগেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, আজ আমরা মিটিংয়ে বসছি। হয়তোবা আগামীকাল ঢাকায় এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন হতে পারে। সরকার করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক ব্যবসায় ও শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়েছে কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা লঞ্চ মালিকরা বঞ্চিত হয়েছি। অথচ অগ্রাধিকার হিসেবে এই শিল্প সর্বাগ্রে প্রাপ্য ছিল।

তিনি বলেন, প্রত্যেক লঞ্চ মালিকের শত কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ রয়েছে। যাদের নির্দিষ্ট হারে এসব ঋণ পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু গত এক বছর ধরে বলতে গেলে আমাদের উপার্জনই নেই। তাহলে আমরা কীভাবে চলি।

তিনি আরও বলেন, ধারদেনা করে কত আর সামাল দেওয়া যায়। ছোট লঞ্চ মালিকরা তো পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে প্রণোদনার আবেদন নৌমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রদান করেছি। কিন্তু কোনো প্রতিফলন আমরা পাইনি।

মেসার্স সালমা শিপিং ও কীর্তনখোলা লঞ্চের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস বলেন, করোনার কারণে আমরা ৯ মাস লঞ্চ চালাতে পারিনি। আমরা সরকারের কাছে প্রণোদনা চাই না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিন। আমরা দেখেছি ঈদের সময় একটি মাইক্রোবাসে ১৭ জন মানুষ যাচ্ছে। ফেরিতে মানুষের ভিড়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু লঞ্চ চলাচল করলে এ সমস্যা হতো না। কারণ আমাদের প্রায় ৮শ লঞ্চ রয়েছে, এই লঞ্চ চলাচল করলে লাখ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করেই গন্তব্যে পৌঁছতে পারত।

তিনি বলেন, লঞ্চ ব্যবসা মানেই ঋণের বোঝা। আমরা কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে লঞ্চ তৈরি করে যাত্রীদের মনোরম সেবা দিয়ে আসছি। কিন্তু করোনার সময় আমাদের দুঃসময়ে সরকার পাশে দাঁড়ায়নি। ফলে ঋণের বোঝায় আমাদের ঘুম হারাম। আমাদের ঋণের কিস্তি দিতে হচ্ছে, শত শত স্টাফদের বেতন, ভ্যাট-ট্যাক্স সবই দিতে হয়েছে। একটি জায়গা থেকেও মাফ পাইনি। তাই আমাদের দিকে সরকার না তাকালে আমরা নিশ্চিত দেউলিয়া হয়ে যাব। আমাদের একটাই দাবি স্বল্পসুদে দ্রুত ঋণের ব্যবস্থা করা হোক; পাশাপাশি লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হোক।

এ ব্যাপারে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, লঞ্চ মালিকদের প্রণোদনার বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। খুব দ্রুত সময়ে বিষয়টির সমাধান হবে।

তিনি বলেন, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি তিনি লঞ্চ মালিকদের নিয়ে বসে আলোচনা করবেন। তারপরই সিদ্ধান্ত হবে কী ধরনের প্রণোদনা প্রদান করা হবে। যুগান্তর

 

এ জাতীয় আরও খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বোয়ালখালীতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা ছাড়াই চলছে সমঝোতার চেষ্টা

১৭ বছর পর ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ, টেস্ট হবে লর্ডসে

২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডের HSCপরীক্ষা শুরু

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তারেক রহমানকে মোদির আমন্ত্রণ

গাজী নজরুলের বহিষ্কার জানিয়ে ইসিকে চিঠি জামায়াতের

ইরান ইস্যুতে কঠিন কূটনৈতিক চাপে ট্রাম্প

মানবিক সহায়তায় আলোচনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুরের বৈঠক

তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা