সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেদিন হাউমাউ করে কেঁদেছিলেন টাইগার কোচ এডি বার্লো

news-image

স্পোর্টস ডেস্ক : আইসিসি ট্রফিতে দারুণ পারফর্মেন্স দেখিয়ে একটি দেশ যখন টেস্ট মুকুট পরার দ্বারপ্রান্তে তখন বাংলাদেশ আগমন তার। তখন বাংলাদেশ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। বিশ্বকাপে গিয়েও হইচই ফেলে দিয়েছে। শক্তিশালী পাকিস্তান আর তুলনামুলক দুর্বল দল স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছে। টেস্ট স্ট্যাটাসের দাবি জোড়ালো হয়েছে। আইসিসির চেয়ারম্যান তখন ভারতের জগমোহন ডালমিয়া। তিনি বেশ উদ্যোগী হলেন বাংলাদেশকে টেস্ট মর্যাদা দেওয়ার জন্য। অবশেষে ২০০০ সালের ২৬ জুন টেস্ট মর্যাদা পেল বাংলাদেশ।

১৯৯৯ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশে এসে সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হন কোচ এডি বার্লো। টেস্ট মর্যাদা পেতে চলা একটা দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তাকে। বাংলাদেশকে ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছিলেন তিনি। স্বস্ত্রীক আসেন বাংলাদেশে। দুর্জয় বাহিনী যখন ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অভিষেক টেস্ট খেলতে নেমছিল তখন হুইল চেয়ারে বসে শিষ্যদের কীর্তি দেখছিলেন তিনি। দেখেছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দুর্দান্ত ১৪৫ রানের অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুই। কিন্তু হঠাৎ হুইল চেয়ার কেন?

এই প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের আগে তিনি মস্তিস্কে রক্তক্ষরণের শিকার হয়েছিলেন। আইসিইউতে রাখা হয়েছিল তাকে। এই কারণে তিনি চলাফেরার ক্ষমতা হারান। কিন্তু সৌরভ গাঙ্গুলীর শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে শিষ্যদের পরাক্রম দেখতে মাঠে এসেছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৪০০ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৯১। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে গেলেও তার চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশ যা করে দেখিয়েছে সেটাই তো অনেক! এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে দারুণ উন্নতি করেছে। টেস্ট ক্রিকেটেও সোনালী সময় টাইগারদের সামনে। এই পর্যায়ে আসতে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল তার ছায়াতেই। আজ শততম টেস্টের সময় তিনি থাকলে কতই না খুশি হতেন!

এরপর ২০০১ সালে বাংলাদেশকে বিদায় জানান তিনি। তিনি তখনও সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। চিকিৎসার জন্য অর্থ সংকটও ছিল। তার ইনসিওরেন্স কম্পানি চিকিৎসা বীমা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ওই পরিস্থিতিতে তিনি তার ওয়াইন তৈরীর ফার্মটি বিক্রয় করে দিতে বাধ্য হন। বাংলাদেশ ছাড়ার সময় বিসিবি ভবনে হাউমাউ করে কেঁদেছিলেন তিনি। পাশে দাঁড়িয়েতার স্ত্রী ক্যালি বার্লো চোখ মুছছিলেন। এদেশকে খুব ভালোবাসতেন তিনি। ভালোবাসতেন বাংলাদেশের মানুষকে। তাই ছেড়ে যেতে কষ্ট হয়েছিল তার। অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে আরও ৫ বছর বেঁচে ছিলেন তিনি। সবসময় তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের খোঁজ খবর রাখতেন। গণমাধ্যমে ইতিবাচক কথা বলতেন। সবাইকে কাঁদিয়ে অবশেষে ২০০৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে অনন্তলোকে যাত্রা করেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই অকৃত্রিম বন্ধু। পেছনে পরে থাকে বাংলাদেশের প্রতি তার ভালোবাসার ইতিহাস আর, বিদায়কালে সেই কান্না…।

এ জাতীয় আরও খবর

কলকাতা উপ-হাইকমিশনে প্রথম সচিব হলেন উম্মে মারুফা

সঞ্চয়পত্রে ফিরেছে বিনিয়োগের ইতিবাচক ধারা

জামিননামা গ্রহণ, আজ মুক্তি পেতে পারেন কলিমউল্লাহ

অভিনয়ে অভিষেক হতে যাচ্ছে রোনালদোর

২ হাজার একর খাসজমি অবৈধভাবে দেওয়ায় ভূমি কর্মকর্তা বরখাস্ত

কক্সবাজারে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই বোনসহ নিহত ৩

গ্যাস সংকট কাটতে শুরু করবে আগামী সপ্তাহে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা রাজনৈতিক: পার্থ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক মঙ্গলবার

যুবদল কর্মী হত্যা: ২৫ লাখ টাকায় ৪ শুটার ভাড়া, দাবি ডিবির

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে ইসি