স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগ, বিচারের আশায় স্বামী
অনলাইন ডেস্ক : নওগাঁর রাণীনগরে এক গৃহবধূর সঙ্গে একই গ্রামের এক তরুণের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মাতব্বরদের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়া ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্ত্রীকে নিয়ে বিচারের আশায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন ওই নারীর স্বামী।
ছয়বাড়িয়া গ্রামের জাহাঙ্গির আলম চঞ্চলের অভিযোগ, তার স্ত্রীর সঙ্গে একই গ্রামের সজল সরকার আকাশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। প্রায় দুই বছর আগে আকাশ বিদেশে চলে গেলেও সম্প্রতি দেশে ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে আবার যোগাযোগ শুরু করেন।
চঞ্চলের দাবি, গত রোববার রাতে বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে না পেয়ে তিনি ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির কাছের একটি নির্জন জায়গায় আকাশের সঙ্গে স্ত্রীকে দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কয়েকজন তাদের আটক করেন।
স্বামীর অভিযোগ, আটকের পর দুজনকে মারধর করা হয়। পরে গ্রামের কয়েকজন মাতব্বর বিচার করে দেওয়ার কথা বলে তাদের ছেড়ে দেন এবং তারা গ্রাম থেকে চলে যান। এরপর থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয় বলে জানান চঞ্চল।
তার আরও অভিযোগ, এরপর থেকে স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বিচার চাইতে গেলে কখনো আজ, আবার কখনো কাল সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে তাকে ঘোরানো হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে মাতব্বর নবীর উদ্দিন, শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন আকাশের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া ঘটনার রাতে কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি বিভিন্ন পক্ষকে ম্যানেজ করার কথা বলে আকাশের পরিবারের কাছ থেকেও প্রায় ১৩ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ঘটনাটি থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে আকাশের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সালিসে থাকা মাতব্বর নবীর উদ্দিন। তিনি বলেন, গ্রামের লোকজনের মতামত অনুযায়ী বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান, পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে থানায় মামলা করার সুযোগ না থাকায় চঞ্চলকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্ত্রী কোথায় আছেন তা খুঁজে বের করতে সহযোগিতা চাইলে পুলিশ সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।











