অনলাইন ডেস্ক : ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩টি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। এসব অভিযানে হুতিদের সামরিক স্থাপনা ও সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নুজাইলি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, হুতিদের হুমকির উৎস হিসেবে চিহ্নিত বিভিন্ন এলাকায় রকেট লঞ্চার, গোলাবারুদ ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিল হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে আরও কঠোর পাল্টা অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার কাউন্সিলের বৈঠকে দেশের সামগ্রিক সামরিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সরকারি পক্ষের অভিযোগ, এর আগে হুতিরা বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবির, বেসামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ অনেক মানুষ হতাহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মিডিয়া সেন্টার জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী হুতিদের হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি দ্রুত পর্যালোচনা, আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের পরিবারের সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা ২০১৪ সাল থেকে রাজধানী সানা ও দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের হামলাও বেড়েছে।
এ অবস্থায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে। নতুন করে সহিংসতা বাড়ায় ইয়েমেনের দীর্ঘ সংঘাতের অবসানের উদ্যোগ আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।