,

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ২০

news-image

অনলাইন ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এ ভূমিকম্পে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়েছে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এনদে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।

মূল কম্পনের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে ৫ দশমিক ৯, ৫ দশমিক ৬ ও ৬ দশমিক ১ মাত্রার তিনটি পরাঘাত অনুভূত হয়। আগামী কয়েক দিনও এ ধরনের কম্পন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্গত অনেক এলাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

মাউমেরে ও আশপাশের এলাকায় উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন। এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও দুজন আটকা রয়েছেন বলে স্থানীয় উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নাগেকেও এলাকায় প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় বাড়িঘর, গুদাম ও সরকারি স্থাপনাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি কিছু এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেসব এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতিও জানা যাচ্ছে না।

ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত, নদীর তীর ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, ফ্লোরেস দ্বীপে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভব করেছেন। আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও কয়েক মিলিয়ন মানুষ কম্পনের মধ্যে পড়েছেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর পর ক্ষয়ক্ষতির আরও বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যেতে পারে।

প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ফ্লোরেস দ্বীপের এই অঞ্চল অতীতেও ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে সেখানে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি সম্ভাব্য পরাঘাত মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল।

এ জাতীয় আরও খবর